মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ভাষণটি ছিল মূলত একটি ‘পলিটিক্যাল ম্যানিফেস্টো’। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, আগামী বছরগুলোতে আমেরিকা হবে ‘প্রোটেকশনিস্ট’ বা রক্ষণশীল।

২০২৬ সালের এই ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ (SOTU) ভাষণে তিনি শুধু দীর্ঘতম ভাষণের রেকর্ডই গড়েননি, বরং আগামীর বিশ্ব রাজনীতির এক রোডম্যাপ দিয়ে দিয়েছেন।


মূল ৫টি পয়েন্ট:

১. ‘ট্যারিফ ম্যান’ এর প্রত্যাবর্তন (Trade War): ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকা এখন থেকে শুধু তাদের থেকেই পণ্য কিনবে যারা আমেরিকাকে সম্মান করে। তিনি কানাডা, চীন এবং ইউরোপের ওপর বিশাল অংকের ‘বর্ডার ট্যাক্স’ বা শুল্কের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, “আমেরিকার মধ্যবিত্তকে বাঁচাতে হলে বিশ্ব বাণিজ্য যুদ্ধ অনিবার্য।”

২. মেক্সিকো সীমান্তে কঠোরতা (Illegal Immigration): ইতিহাসের বৃহত্তম নির্বাসন (Deportation) অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সীমান্তে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে কোনো আপস করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

৩. ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে কড়া বার্তা (Global Conflict): আপনি যে ইরান-রাশিয়া মহড়ার কথা বলেছিলেন, ট্রাম্পের ভাষণে তার কড়া জবাব ছিল। তিনি ইরানকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, “পারমাণবিক বোমা বানানো তো দূরের কথা, ইরান যেন তেলের পাইপলাইন ছোঁয়ার সাহসও না পায়।” ইসরায়েলকে তিনি শর্তহীন সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

৪. ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের ‘ডেডলাইন’: ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাশিয়ার ওপর চাপ বেড়েছে এবং খুব দ্রুত ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে তিনি কিয়েভ ও মস্কোকে এক টেবিলে বসাবেন। তবে কানাডা যে ২ বিলিয়ন ডলারের সাহায্য দিচ্ছে, সেটা নিয়ে তিনি কিছুটা বিদ্রূপও করেছেন।

৫. আমেরিকার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি: “Make America Wealthy Again”—এই শ্লোগান দিয়ে তিনি কর্পোরেট ট্যাক্স কমানো এবং জ্বালানি তেলের উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যাতে ডলারের মান আরও শক্তিশালী হয়।

Share.
Exit mobile version