প্রথম আলো ডেইলী স্টার ভবনে আগুন, লন্ডভন্ড

জুলাই আন্দোলনের পর পৃথকভাবে তৈরি হওয়া ইনকিলাব মঞ্চে’র মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো বাংলাদেশ। গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টা দিকে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর খবর পৌছালে জুলাই আন্দোলনের পর বিভিন্নভাগে বিভক্ত তার সমর্থক, অনুরাগীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ঢাকার রাস্তার নেমে আসে। এরপর তারা রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত দৈনিক প্রথম আলোর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান প্রথমা ভবন ও ইংরেজি দৈনিক দ্যা ডেইলী ভবন ভাঙচুর করে। পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মিদের বাসভবন ভাঙচুর করে।

বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম নগরে অবস্থিত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার তার বাসভবন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ। তিনি ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

গণমাধ্যমকে সিএমপি কমিশনার জানান, ঘটনার সময় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার তার বাসভবনেই অবস্থান করছিলেন। বিক্ষোভকারীরা বাসভবন লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সাথে অভিযানে জড়িত সন্দেহে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বাসভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিজের সন্তোষ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার।

এদিকে নিজের ফেসবুক পেজে এই প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের জানমালের দায়িত্ব বর্তমান সরকারের। শহীদ হাদির মৃত্যুতে শোকার্ত জাতি যখন সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করছে হাদির আত্মার মাগফিরাতের জন্য, তখন ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বরেণ্য সাংবাদিক নূরুল কবীরসহ আরও অনেকের উপর হীন হামলা সংঘটিত হলো।’

এমন ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল লিখেন, ‘দেশের সংকটময় মুহূর্তকে কাজে লাগানোর জন্য যারা অপেক্ষা করে, এরা এই দেশের শত্রু। তারা অপেক্ষা করে সংকটের। আজ এই দুঃখভারাক্রান্ত মুহূর্তকে এরা ধ্বংসাত্মক কাজে রূপান্তর করলো। আমি এই সন্ত্রাসের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি! সরকারকে এই ঘটনার পুরো দায়িত্ব নিতে হবে।’

এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে শুক্রবারও বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রাজধানীর শাহবাগে জড়ো হতে শুরু করেছে আন্দোলনকারীরা। শুক্রবার সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে মানুষ শাহবাগে আসছেন। এ সময় অনেকের হাতে জাতীয় পতাকা দেখা যায়।

আওয়ামী লীগ ও ভারত বিরোধী বক্তব্যের কারণে শরিফ ওসমান হাদি সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ছিলেন।

Share.
Exit mobile version