সমালোচনা ও রাজনৈতিক আপত্তির মুখে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন বহনের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগের নির্দেশনা সংশোধন করে ভোটারসহ সংশ্লিষ্টদের মোবাইল ফোন নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার রাতে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ভোটার, প্রার্থী, নির্বাচনি এজেন্ট, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে পারবেন। তবে গোপন কক্ষে ব্যালটে সিল দেওয়ার সময় কোনো ধরনের ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
তিনি জানান, বিষয়টি আরও পরিষ্কার করতে বিদ্যমান পরিপত্র সংশোধন করা হচ্ছে। আখতার আহমেদ বলেন, “ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারে যে সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছিল, তা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। সে বিভ্রান্তি দূর করতেই আমরা নির্দেশনা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি।”
তবে কিছু ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারে কড়াকড়ি বহাল থাকবে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পোলিং এজেন্ট, পোলিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন রাখা যাবে না। এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত নির্দেশনা দেওয়া হবে।
এর আগে রোববার রাতে আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। ওই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মহল থেকে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেন। জোটভুক্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে ইসি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারিও দেন।



