জনগণের ভোটে দেশ পরিচালনা করার সুযোগ পেলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করে দেওয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে প্রচারের শেষে দিনে সোমবার দুপুর আড়াইটায় ঢাকা- ৮ আসনে পীরজঙ্গি মাজার সড়কে এক পথসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান এই প্রতিশ্রুতি দেন। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেন মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেন, “এই এলাকায় (ঢাকা-৮ আসন) তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থানের সমস্যা আছে, এই সমস্যা শুধু ঢাকা নয়, সমগ্র বাংলাদেশে এই সমস্যা। এরজন্য আপনাদের প্রিয় দল বিএনপি এই ব্যাপারে কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আমরা বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে ইনশাল্লাহ এক কোটি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করব।”

অর্থনীতির উন্নয়নে পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা দেশে বিনিয়োগকারীদেরকে উৎসাহিত করব, বিদেশ থেকে বিনিয়োগকারীদেরকে আমরা আমন্ত্রণ জানাব, দেশে মিল কারখানা তৈরির মাধ্যমে যেমন আমরা একদিকে বেকার সমস্যার সমাধান করব।”

দক্ষ নাগরিক গড়ে তোলার পরিকল্পনায় তারেক রহমা্ন বলেন, “একইভাবে আমরা এই ঢাকা-৮ আসনসহ যত জেলা আছে, সর্বত্র ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, ট্রেনিং ইনস্টিটিউট টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট এবং আইটি সংক্রান্ত বিভিন্ন ইনস্টিটিউট আমরা তৈরি করব সেখানে আমাদের তরুণ সমাজের ছেলে হোক মেয়ে হোক তাদেরকে আমরা দক্ষ নাগরিক হিসেবে ধীরে ধীরে গড়ে তুলব। যার ফলে তারা দেশেই হোক নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করে নিবে পারবে, দেশেই হোক তারা নিজেদের বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা নিজেদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সক্ষম হবে।

আমরা দেখেছি আমাদের প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বিদেশে আছেন। এর মধ্যে অনেক মানুষ বিদেশ যাবার আগে অর্থ সংকটের জন্য তারা নিজেদের বাপ-দাদার জমি বিক্রি করতে হয়। কিন্তু আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, ইনশাআল্লাহ আগামীতে যারা এই দক্ষ মানুষ যারা বিদেশে যাবে আমাদের তরুণরা, যুবকরা যারা বিদেশে যাবে, যারা অর্থ সংকটের কারণে যেতে পারছে না তাদেরকে আমরা জমি বিক্রি করতে দেব না। তাদেরকে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করে দেব। যেই টাকা সে ধীরে ধীরে ওখানে কর্মসংস্থান করে পরিশোধ করবে। কিন্তু আমরা বাপ দাদার জমি যাতে বিক্রি করতে না আমরা সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।”

একই সঙ্গে বিএনপি নির্বাচিত হলে এক লাখ স্বস্থ্য কর্মী নিয়োগ দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার কথাও বলেন তিনি।

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, স্বাস্থ্য সেবা, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ সকল ধর্মগুরুদের জন্য সন্মানি ভাতা প্রবর্তন, আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার বিষয়ে দলের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, “আমি আমার বক্তব্যে দলের পরিকল্পনা তুলে ধরলাম। ১২ তারিখে আপনাদের পরিকল্পনা কী আমি জানতে চাই?”

হাজারো নেতা-কর্মী-সমর্থক সমস্বরে তখন বলে ওঠে ‘ধানের শীষ, ধানের শীষ’।

বিএনপি নির্বাচিত হলে ঢাকা-৮ আসনে খেলা মাঠ নির্মাণ, কবরাস্থানের জন্য জায়গা প্রদান, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান।

পরে মির্জা আব্বাসের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তাকে নির্বাচিত করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

এদিন বনানীর কামাল আতাতুর্ক মাঠে সভর মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এরপর তিনি ঢাকা-১০ আসনে শেখ রবিউল আলম রবির নির্বাচনি এলাকায় কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখার পর আসেন ঢাকা-৮ আসনে মির্জা আব্বাসের আসনে।

ভোট ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ফল ছিনতাইয়ের যে কোনো চেষ্টা প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। ঢাকার বিভিন্ন নির্বাচনি জনসভায় তারা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত ভোটাধিকার কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নস্যাৎ হতে দেওয়া হবে না।

ঢাকা-৮ আসনের জনসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, কিছু মহল পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি আসনে জোরজবরদস্তি করে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা করতে পারে। তিনি নেতাকর্মী ও ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, কোনো সরকারি বা বেসরকারি কর্মকর্তা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে তা প্রতিহত করা হবে।

ঢাকা-১০ আসনের কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে জনসভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, নকল ব্যালেট সিল তৈরি ও ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের মতো গুপ্ত ষড়যন্ত্র চলছে। এসব ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, সবাই সতর্ক থাকলে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। তিনি ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষায় শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি ঢাকা-১০ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবির পক্ষে ভোট চান এবং সরকার গঠিত হলে এলাকার সমস্যাগুলো সমাধানের আশ্বাস দেন।

রোববার ঢাকার বাইরে ২০টির বেশি স্থানে প্রচারণা শেষে ঢাকা মহানগরে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেন তারেক রহমান। এদিন তিনি ঢাকা-৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১০ আসনের একাধিক পথসভা ও জনসভায় বক্তব্য দেন।

Share.
Exit mobile version