বিদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য চীনের নতুন ‘কে ভিসা’ চালুর পর দেশটিতে তীব্র জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাজার হাজার ব্যবহারকারী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই নীতি দেশের ধীরগতির চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। একজন মন্তব্যকারী লিখেছেন, ‘আমাদের নিজেদেরই এত স্নাতক ডিগ্রিধারী আছে, স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট ডিগ্রিধারীর তো কথাই নেই। আমাদের দেশেই প্রতিভার উদ্বৃত্ত রয়েছে। আর এখন আপনারা বিদেশি কলেজ স্নাতকদের নিয়ে আসছেন?’ আরেকজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘শেষ পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, একটি বিদেশি পাসপোর্টের কাছে সব কিছুই হার মানবে।’

মূলত, ভারতীয় একটি গণমাধ্যম চীনের এই নতুন ভিসাকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষ কর্মীদের জন্য নির্ধারিত ‘এইচ-১বি’ ভিসার সঙ্গে তুলনা করার পরই বিষয়টি নিয়ে চীনে ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এই সমালোচনার মধ্যে অনেক বিদেশিবিদ্বেষী এবং বর্ণবাদী মন্তব্যও ছিল, যার বেশির ভাগ বিশেষভাবে ভারতীয়দের লক্ষ্য করে করা হয়েছিল।

বিরূপ প্রতিক্রিয়া এতটাই তীব্র আকার ধারণ করে যে, পরিস্থিতি শান্ত করতে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। গ্লোবাল টাইমস এক প্রতিবেদনে এই প্রকল্পকে ‘নতুন যুগে বিশ্ববাসীর কাছে আরও উন্মুক্ত ও আত্মবিশ্বাসী চীনকে দেখার একটি সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করে। পিপলস ডেইলিও ‘কে ভিসা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো কেবল জনগণকে বিভ্রান্ত করবে’ শিরোনামে একটি মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

গত বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া ‘কে ভিসা’ মূলত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) ক্ষেত্রে কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য চালু করা হয়েছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, চীন বা বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে এসটিইএম ক্ষেত্রে স্নাতক বা উচ্চতর ডিগ্রিধারী ব্যক্তিরা এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এই ভিসার মাধ্যমে বিদেশিরা সরাসরি কাজের অনুমতি পাবেন, নাকি শুধু চীনে সহজে প্রবেশের সুযোগ পাবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়, যা জনমনে বিভ্রান্তি আরও বাড়িয়েছে।

Share.
Exit mobile version