নেপালের নতুন অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কারকি স্বীকার করেছেন যে, দেশটিতে সুশাসন ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণেই সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল। শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতাকে এই অস্থিরতার জন্য দায়ী করেন।

সংবিধান ঘোষণার দশম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “আমাদের অবশ্যই এই সত্য মেনে নিতে হবে যে সুশাসন ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার সাংবিধানিক চেতনা ও লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতার কারণেই এ বিক্ষোভ হয়েছে।”

দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া এই ভাষণে তিনি দুর্নীতি দমন, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে পরিচালিত ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে আগের সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়, যার ফলে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। গত সপ্তাহে দুই দিনব্যাপী চলা এই বিক্ষোভে অন্তত ৭২ জন নিহত ও ২ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট ও পার্লামেন্ট ভবনসহ বহু সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপতি এবং সেনাপ্রধানের মধ্যে আলোচনার পর সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

Share.
Exit mobile version