ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য সামরিক ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়নে রাশিয়ার একটি রাষ্ট্রীয় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছেন চীনের বিশেষজ্ঞরা। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা রুশ প্রতিষ্ঠানটিতে চীনা প্রযুক্তিবিদদের এই উপস্থিতিকে দুই দেশের মধ্যে গভীর সামরিক সহযোগিতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুজন ইউরোপীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও রয়টার্সের পর্যালোচিত কিছু নথির বরাতে এই তথ্য সামনে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, চীনের ড্রোন বিশেষজ্ঞরা গত বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে রাশিয়ার অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘আইইএমজেড কুপল’-এর কারখানা ছয় থেকে সাতবার পরিদর্শন করেছেন। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি একটি রুশ মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে চীন থেকে অ্যাটাক ও নজরদারি ড্রোনও সংগ্রহ করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন পরীক্ষা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে চীনা বিশেষজ্ঞদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ দেশ দুটির মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার প্রমাণ। এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল যে, কুপল চীনে স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ‘গারপিয়া-৩’ নামে একটি ড্রোন তৈরি করেছে। তবে এবারই প্রথম রাশিয়ার মাটিতে চীনা বিশেষজ্ঞদের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি জানা গেল।

এই সহযোগিতার বিষয়ে কোনো তথ্য জানা নেই বলে জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি বলেছে, “ইউক্রেন সংকটে চীন সর্বদা নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগত অবস্থান নিয়েছে। আমরা কোনো পক্ষকে প্রাণঘাতী অস্ত্র সরবরাহ করিনি এবং ড্রোনের মতো দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছি।”

অন্যদিকে, এ বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর ক্রেমলিন, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বা আইইএমজেড কুপল কেউই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

রয়টার্সের হাতে আসা ব্যবসায়িক বিল ও ব্যাংক বিবরণীর মতো নথি থেকে দেখা যায়, গত বছর চীনের ড্রোন নির্মাতা ‘সিচুয়ান এইই’ থেকে কয়েক ডজন হামলাকারী ড্রোন সংগ্রহ করে কুপল। এই ড্রোনগুলো সরবরাহ করেছিল রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ক্রয় প্রতিষ্ঠান ‘টিএসকে ভিক্টর’, যেটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে।

গারপিয়া ড্রোনগুলো ইরানের শাহেদ ড্রোনের আদলে তৈরি, যা শত শত মাইল উড়ে গিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। কিয়েভের তথ্যমতে, রাশিয়া প্রতি মাসে প্রায় ৫০০টি এমন ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনে হামলা চালায়। ইউরোপীয় কর্মকর্তারা মনে করছেন, চীনা বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি এবং ড্রোনের চালান এটাই প্রমাণ করে যে, কুপল নতুন ধরনের ড্রোন উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

Share.
Exit mobile version