ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর তিনচতুর্থাংশ ভোটকেন্দ্রকেগুরুত্বপূর্ণহিসেবে দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), যেগুলো স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ভাষায়ঝুঁকিপূর্ণ

নির্বাচনে ডিএমপির আওতায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ২ হাজার ১৩১টি। কেন্দ্রগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’- এ দুই ক্যাটাগরিতে ফেলার কথা জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত হোসেন।

ডিএমপির এক কর্মকর্তা বলেন, “এলাকাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো যাচাই করে ১ হাজার ৬১৬টি কেন্দ্র ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ৫১৫টি কেন্দ্র ‘সাধারণ’। অর্থাৎ মোট কেন্দ্রের ৭৫ দশমিক ৮৩ শতাংশই ‘গুরুত্বপূর্ণ’।

এর মধ্যে ৩৭টি কেন্দ্রকে ‘বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে নজরে রাখার কথা বলেন ওই কর্মকর্তা। কেন্দ্রগুলো ডিএমপির কোন কোন বিভাগে, সেটি বিস্তারিত বলেননি তিনি।

গত ১৯ জানুয়ারি সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এবার ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘গুরুত্বপূর্ণ’ মিলে ২৫ হাজার ৩৩২টি কেন্দ্র রয়েছে।

সেসময় ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এর ব্যাখ্যায় কেন্দ্রগুলোকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

ডিএমপির ওয়ারী বিভাগে মোট তিনটি নির্বাচনি এলাকা পড়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-৪, ঢাকা-৫ ও ঢাকা-৬ এর আংশিক রয়েছে।

পুলিশের হিসাবে, ওয়ারী বিভাগে কেন্দ্র রয়েছে ৩২৭টি। তার মধ্যে ২৮০টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’।

পাশে লালবাগ বিভাগে রয়েছে তিনটি নির্বাচনি এলাকা। এর মধ্যে ঢাকা-৬ আংশিক। অন্য দুটি হচ্ছে ৭ এবং ১০। এই তিনটি নির্বাচনি এলাকায় কেন্দ্র রয়েছে ২১৭টি, যার ১৫৫টিই ‘গুরুত্বপূর্ণ’, অর্থাৎ ‘ঝুঁকিপূর্ণ’।

নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-৮ এর আংশিক এবং ৯ ও ১১ মিলে পুলিশের মতিঝিল বিভাগ। এই এলাকায় ভোট কেন্দ্র রয়েছে ২৮০টি। তার মধ্যে ২২৮টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঢাকা-১০ ও ঢাকা-১৩ আসন নিয়ে পুলিশের রমনা বিভাগ। সেইসঙ্গে ঢাকা-৮ এর আংশিকও রয়েছে। এই তিন নির্বাচনি এলাকায় ১৬৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৯টি পুলিশের চোখে ‘গুরুত্বপূর্ণ’।

সবচেয়ে বেশি নির্বাচনি এলাকা নিয়ে গঠিত পুলিশের তেজগাঁও বিভাগ। যেখানে ঢাকা-১০, ঢাকা-১৩ এবং ঢাকা-১৫ আসনের আংশিকসহ ঢাকা-১১ ও ঢাকা-১২ আসনের পুরোটা রয়েছে। এই এলাকায় ২৮৬টি কেন্দ্র রয়েছে যার ১৯৯টিই ‘গুরুত্বপূর্ণ’।

মিরপুর বিভাগের মধ্যে রয়েছে ঢাকা-১৫ আসনের আংশিক। সেইসঙ্গে ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৬ ও ঢাকা-১৭ নির্বাচনি এলাকা রয়েছে মিরপুর বিভাগের মধ্যে। এই বিভাগে ভোটকেন্দ্র সবথেকে বেশি। সেখানে ৪৪০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৩১টিকে পুলিশ ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বিবেচনায় এনেছে। বাকি ১০৯টি ‘সাধারণের’ ঘরে রাখা হয়েছে।

পুলিশের গুলশান বিভাগে ঢাকা-১১, ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-১৮ নির্বাচনি এলাকায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ২৪৯টি। এর মধ্যে পুলিশের ভাষায় ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ১৭৮টি।

আর নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৮ নিয়ে পুলিশের উত্তরা বিভাগ। এই বিভাগে ১৬৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। পুলিশের তালিকায় এই ১৬৫টির মধ্যে ১৩৬টিই ‘গুরুত্বপূর্ণ’।

রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমন্বয় করে ভোটকেন্দ্রগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

“এর মধ্যে ভোট কেন্দ্রের অবস্থান, কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটুকু, ওই এলাকার ভোটাররা কী ধরনের, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা কেমন- এ ধরনের বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।”

এসব কেন্দ্রে অন্য কেন্দ্রের চেয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়তি থাকবে। কড়া নজরদারির মধ্যে রেখে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ হবে।

Share.
Exit mobile version