যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (এফবিআই) সাবেক পরিচালক জেমস কোমির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন বিচার বিভাগ এই অভিযোগ দায়ের করে, যাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কোমির সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
এই অভিযোগ দায়েরের খবরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ন্যায়বিচার!’ অপর এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘তিনি (কোমি) এত দিন ধরে আমাদের দেশের অনেক ক্ষতি করেছেন।’ জানা গেছে, ট্রাম্প তার অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে কোমিসহ অন্যান্য সমালোচকদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন।
এদিকে, নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেমস কোমি। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের কারণে আমার মন ভেঙে গেছে। তবে কেন্দ্রীয় বিচারব্যবস্থার প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা আছে এবং আমি নির্দোষ। তাই বিচার হোক এবং আস্থা থাকুক।’
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে কোমি দাবি করেছিলেন যে তিনি কোনো এফবিআই কর্মকর্তাকে গণমাধ্যমে বেনামি সূত্র হিসেবে কথা বলার অনুমতি দেননি। আইনজীবীদের মতে, কোমির এই বক্তব্য ছিল মিথ্যা। শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে আইন প্রণয়নের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
তবে এই মামলার ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, কোমির মামলাটির দায়িত্বে থাকা ভার্জিনিয়ার ফেডারেল আইনজীবী গত সপ্তাহে পদত্যাগ করেন। মামলার প্রমাণ নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ওপর ক্ষুব্ধ হন। ওই আইনজীবীর কার্যালয়ের অন্য কর্মকর্তারাও মনে করেন, এসব প্রমাণ দিয়ে ফৌজদারি অভিযোগ প্রমাণ করা কঠিন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত রাখার কয়েক দশকের পুরোনো রীতিনীতি লঙ্ঘন করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও তার একাধিক সমালোচকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। এদের মধ্যে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা জন বোল্টনও রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প জেমস কোমিকে এফবিআই পরিচালকের পদ থেকে বরখাস্ত করেছিলেন। কোমির অধীনে পরিচালিত এফবিআইয়ের এক তদন্তে বলা হয়েছিল যে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে জেতানোর জন্য রাশিয়া সহযোগিতা করতে চেয়েছিল, যা নিয়ে ট্রাম্প বরাবরই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন।

