ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই লড়াই ছাপিয়ে এখন আলোচনায় উঠে এসেছে পর্দার আড়ালের কূটনীতি। যুদ্ধ থামাতে তিন দেশের মধ্যস্থতার খবর এসেছে আগেই। এবার শোনা যাচ্ছে, পাকিস্তানে এ সপ্তাহেই বৈঠকে বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পাকিস্তানি ও কয়েকজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধ অবসান নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাদে দুইপক্ষের মধ্যে সরাসরি এই বৈঠক হতে পারে।
মিশর, পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা চালাচালি করছে বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা।
তবে ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকা জানিছে, শান্তি আলোচনার স্থান ইসলামাবাদ এখনও সরকারিভাবে নিশ্চিত করেনি এবং কোনও পক্ষই এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে একমত হয়নি।
শান্তি আলোচনার অন্যান্য স্থান হিসাবে কাতার, তুরস্ক এবং মিশরের নামও উঠে এসেছে। তবে আলোচনা স্থান হিসাবে ইরানের পছন্দ ইসলামাবাদ-ই।
পাকিস্তানের কর্মকর্তারা বলছেন, শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হতে পারেন প্রধান আলোচক।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-জানিয়েছিল, তুরস্ক, মিশর এবং পাকিস্তান গত দু’দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে বার্তা চালাচালি করেছে।
তিন দেশেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গত কয়েক দিনে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে আলাদা আলাদা ভাবে কথা বলেছেন বলে দাবি করা হয় খবরে।
এরই মধ্যে পাকিস্তানের সামরিক নেতারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি আলোচনায় মধ্যস্থতা করতে উদ্যোগ নেন বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
খবরে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউজ গত রোববার যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করতে ফোনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনীরের কথা হয়েছে বলে নিশ্চিত করে জানিয়েছে।
দুইজনের এই ফোনালাপের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সোমবার ফোনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন। তারা জরুরি ভিত্তিতে উত্তেজনা প্রশমন, সংলাপ ও কূটনীতির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একমত হয়েছেন।
কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হতে পারেন ইরানের পক্ষ থেকে বৈঠকের প্রধান আলোচক। গালিবাফ এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলার খবরকে ‘ভুয়া সংবাদ’ বলে প্রত্যাখ্যান করে এসেছেন।
ওদিকে, ইরানের এক কূটনৈতিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করে বলেছেন যে, তিনি দুই পক্ষের মধ্যে এ সপ্তাহেই আলোচনা হওয়ার আশা করছেন।
তবে এই কর্মকর্তা জানান, ইরানের দিক থেকে ওয়াশিংটনের ওপর কোনও ভরসা নেই এবং কোনও আলোচনাতেই ইরান মার্কিন দূত উইটকফ এবং ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনারকে আলোচক হিসাবে মেনে নেবে না।

