ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের কারাগারগুলোতে থাকা বন্দিদের মধ্যে মাত্র ৭ শতাংশ এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
কারা অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সারাদেশের কারাগারগুলোয় থাকা ৮৫ হাজার বন্দির মধ্যে এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিবেন ৫ হাজার ৯৬০ জন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক জান্নাত উল ফরহাদ বলেন, দেশে মোট ৭৫টি কারাগার রয়েছে। এই কারাগারগুলোর মধ্যে ৭১টি কারাগারে থাকা বন্দিরা পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছে। বাকিগুলো নতুন হওয়ায় সেখানে বন্দি নেই।
৪৩ হাজার বন্দি ধারণ ক্ষমতা থাকলেও দেশের কারাগারগুলোতে বর্তমানে বন্দির সংখ্যা প্রায় ৮৫ হাজার।
এই অবস্থার মধ্যে নির্বাচন কমিশন এবার পোস্টাল ব্যালটের বিষয়ে বেশ গুরুত্ব দেওয়ায় প্রবাসী ছাড়াও দেশের কারাগারগুলোতে বন্দিদের ভোটের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
কারা কর্মকর্তা জান্নাত উল ফরহাদ বলেন, “এবার মোট বন্দির মধ্যে পোস্টাল ভোটের জন্য ৬ হাজার ৩১৩ জন রেজিস্ট্রেশন করলেও নানা জটিলতার কারণে কিছু বাদ পড়ে। অনুমোদন লাভ করে ৫ হাজার ৯৬০ জনের।
“এই ৫ হাজার ৯৬০ জনের মধ্যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৪৭ জনের ভোট সম্পন্ন হওয়ায় যথারীতি সংশ্লিষ্ট জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকীগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
বাকিগুলোতে দেরি হওয়ার কারণ কী প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা ওয়েব সাইটে করতে হয়। সংশ্লিষ্ট বন্দি যে এ এলাকার সেই এলাকার প্রার্থীদের তালিকা ওয়েবসাইট থেকে বের করে দিতে হয়, ফলে এটাতে একটু সময় লাগে।”
কারা অধিদপ্তর বলছে, বর্তমানে মোট বন্দির মধ্যে অধিকাংশই চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
৪৩ হাজার ধারণ ক্ষমতার কারাগারগুলোতে চব্বিশের ৫ অগাস্ট পর্যন্ত বন্দি ছিল প্রায় ৪৮ হাজার। সেই ৪৮ হাজার থেকে বর্তমানে ৮৫ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে গত ১৭ মাসে।
এসব বন্দির মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার সাজাপ্রাপ্ত জানিয়ে এক কারা কর্মকর্তা বলেন, “সাজাপ্রাপ্ত অধিকাংশ বন্দির জাতীয় পরিচয়পত্র নেই বা তাদের অনেকেই পোস্টাল ভোট দিতে আগ্রহী নয়। তা ছাড়া অন্য যে সব বন্দি আছেন তাদের অধিকাংশ ৫ অগাস্টের পর গ্রেপ্তার হওয়ায় তারা ভোট দান থেকে বিরত থাকছে বা ভোটদানে আগ্রহ নেই। ফলে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দাতার সংখ্যা অনেক কম।”
আবার অনেকেই ভোটের আগে জামিন পাবেন এবং বাইরে গিয়ে ভোট দিবে এই আশায় কারাগার থেকে রেজিস্ট্রেশন করেননি বলে ধারণা করছেন ওই কর্মকর্তা।
এদিকে কারাগারে থেকে রেজিস্ট্রেশন করার পর ভোট দেওয়ার আগে জামিন হয়ে গেলে কোন বন্দীর আর কারাগার থেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই জানিয়ে কারা কর্মকর্তা জান্নাত উল ফরহাদ বলেন, “বিধিগত কারণে কারাগার থেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ যেমন নেই তেমনি যেহেতু তিনি একবার রেজিস্ট্রেশন করেছেন সে কারণে বাইরে থেকে ভোটদানের সুযোগ নেই।”

