ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান গণহত্যা বন্ধ এবং ত্রাণবাহী নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’য় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ঢাকার রাজপথ মুখর হয়ে উঠেছিল বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্লোগানে। শুক্রবার বিকেলে ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ সিনার্জি অ্যালায়েন্স’–এর আহ্বানে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভে ৭০টির বেশি সংগঠনসহ বহু সাধারণ মানুষ অংশ নেয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ৪৪টি দেশের ৫০০ বিশিষ্ট নাগরিক ৪০টি নৌযানে গাজার অবরুদ্ধ ও অনাহারী মানুষের জন্য ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার পথে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র ওপর হামলা চালায়। এই অহিংস ও মানবিক উদ্যোগে বাধা দিয়ে ইসরায়েল মানবাধিকারকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে উল্লেখ করে আয়োজনের সমন্বয়কারী নয়ন সরকার এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
কর্মসূচির শুরুতে গাজায় নিহত ফিলিস্তিনিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর অংশগ্রহণকারীরা প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে মানববন্ধন করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানারে ‘ফ্রিডম ফর প্যালেস্টাইন/জাস্টিস ফর অল’ এবং ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর/জেনোসাইড নো মোর’-এর মতো স্লোগান দেখা যায়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ফার্মগেটের খামারবাড়ি হয়ে পুনরায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ গেটে এসে শেষ হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক কারণেই ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা অবিলম্বে ফিলিস্তিনকে উপনিবেশমুক্ত করে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের দাবি জানান। একইসঙ্গে, ওই নৌবহরে থাকা বাংলাদেশি আলোকচিত্রশিল্পী শহিদুল আলমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে অনেক সাধারণ নাগরিককে। গুলশান থেকে আসা প্রবীণ গৃহবধূ ফেরদৌসী হোসেন ও তার মেয়ে নুসাইবা হোসেন জানান, তারা নির্যাতিত মানুষের প্রতি মানবিক সহানুভূতির জায়গা থেকে অনলাইনে খবর পেয়ে সমাবেশে এসেছেন। একইভাবে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিবাদ জানাতে এসেছিলেন পুরোনো গাড়ি সংগ্রাহক দিদারুল ইসলাম। তিনি ফিলিস্তিনের পতাকায় সজ্জিত তার ১৯৭০ মডেলের ফক্সভাগেন গাড়িটি নিয়ে মিছিলে যোগ দেন।
নয়ন সরকার জানান, এই আয়োজন ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত এবং মানবিক তাগিদ থেকে উৎসারিত, যেখানে কোনো প্রথাগত সভাপতি বা নির্দিষ্ট বক্তা ছিলেন না। অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল সেইভ ফিউচার বাংলাদেশ, প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ার, জুলাই মঞ্চ, রোড সেফটি মুভমেন্ট, বইবন্ধু, এবং জাগ্রত তারুণ্যসহ আরও অনেকে।

