ইসরায়েলি অবরোধ ভেঙে গাজায় প্রবেশের লক্ষ্যে সাংবাদিক, চিকিৎসক ও মানবাধিকারকর্মীদের নিয়ে ১১টি জাহাজের একটি আন্তর্জাতিক নৌবহর পূর্ব ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিচ্ছে। ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’ (এফএফসি) আয়োজিত এই অভিযানে প্রায় ১০০ জন আরোহী রয়েছেন।
নৌবহরটির নেতৃত্বে থাকা ‘কনসায়েন্স’ নামের জাহাজে ২৫টি দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। আয়োজকদের তথ্যমতে, নৌযানগুলো বর্তমানে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে। শুক্রবার এক ভিডিও বার্তায় শহিদুল আলম জানান, তাঁদের বহরটি ফিলিস্তিনের সময়সীমায় (টাইম জোন) প্রবেশ করেছে।
এই অভিযানের উদ্দেশ্য কেবল মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নয়, বরং গাজার ওপর ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অবরোধ এবং গণমাধ্যমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করা। প্রায় দুই বছর ধরে বিদেশি সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ২৭০ জনের বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
একই সঙ্গে ধারাবাহিক হামলায় গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং আন্তর্জাতিক চিকিৎসক দলগুলোর প্রবেশেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে এফএফসি।
জাহাজে থাকা এফএফসি-র স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য হুয়াইদা আরাফ বলেন, “‘কনসায়েন্স’ শুধু ইসরায়েলের অবৈধ অবরোধের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধের প্রতীক নয়, বরং বিশ্ব বিবেককে জাগ্রত করার ডাক।” ইতালির চিকিৎসক রিকার্ডো কোররাদিনি বলেন, “সাংবাদিক ও চিকিৎসক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব সত্য বলা ও জীবন রক্ষা করা। এই মিশন আমাদের সহকর্মীদের প্রতি এক আহ্বান—আর সেই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও, যাতে তারা নীরবতা ভাঙে।”
২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন এর আগেও একাধিকবার গাজায় অবরোধ ভাঙার মানবিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে।

