বাংলাদেশে ভ্রমণ পরিকল্পনা থেকে শুরু করে টিকিট কেনা বা হোটেল বুকিংয়ের মতো পুরো প্রক্রিয়াটি এখন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় এসেছে। অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি বা ওটিএ-এর মাধ্যমে এই সমন্বিত সেবা ভ্রমণকে আগের চেয়ে অনেক সহজ করে তুলেছে, যা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হওয়ার পাশাপাশি দেশেও দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।

এই প্ল্যাটফর্মগুলোর মূল সুবিধা হলো গ্রাহকের স্বাধীনতা ও সুবিধার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। একজন ভ্রমণকারী ঘরে বসেই নিজের বাজেট ও পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ভাড়া তুলনা করতে পারেন। শুধু তাই নয়, ইকোনমি বা বিজনেস ক্লাস আসন, পাঁচ তারকা থেকে তিন তারকা মানের হোটেল এবং ডিলাক্স বা স্যুট—যেকোনো ধরনের রুম বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে। বুকিং সম্পন্ন হওয়ার পর টিকিটসহ প্রয়োজনীয় নথি তাৎক্ষণিকভাবে গ্রাহকের ই-মেইলে পৌঁছে যায় এবং এই সেবা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে।

আন্তর্জাতিকভাবে ভিসা, মাস্টারকার্ড বা আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ডের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধের পাশাপাশি বর্তমানে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করেও সহজে অর্থ লেনদেন করা সম্ভব হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে ১৯৯৬ সালে ‘এক্সপেডিয়া ডট কম’-এর মতো প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে ওটিএ ব্যবসায়িক সফলতা পেলেও, বাংলাদেশে এর ব্যাপক প্রসার ঘটেছে প্রায় দুই দশক পর। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই দেশে একটি শক্তিশালী বাজার তৈরি হয়েছে। শেয়ারট্রিপ, ট্রিপলাভার, গো যায়ান, ফার্স্টট্রিপ, ট্রাভেল চ্যাম্প ও আকিজ এয়ারের মতো বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান নির্ভরযোগ্য সেবা দিয়ে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

তবে এই খাতের বিকাশ পুরোপুরি নিষ্কণ্টক ছিল না। যাত্রার শুরুতে ফ্লাইট এক্সপার্ট, হালট্রিপ বা টুয়েন্টিফোরটিকিট ডট কমের মতো কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড এই অগ্রসরমান খাতটিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। এখনও কিছু ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক মূল্যছাড় বা অযৌক্তিক অফার দিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার প্রবণতা দেখা যায়, যা সুস্থ ব্যবসায়িক পরিবেশের জন্য অন্তরায়। এ কারণে খাতটির ওপর যথাযথ সরকারি পর্যবেক্ষণ এবং গ্রাহকদের সচেতনতা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

Share.
Exit mobile version