উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দের খাস্ত ইমাম স্কয়ারে সংরক্ষিত আছে বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন একটি কুরআন, যা ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান ইবন আফফান (রা.) পাঠ করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। কেবল এই একটি নিদর্শনই নয়, মধ্য এশিয়ার উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তানজুড়ে ছড়িয়ে আছে এমন আরও বহু ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক স্থাপনা, যা পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করে।
ধর্মীয় নিদর্শনের পাশাপাশি মধ্যযুগের ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সমরখন্দের উলুগ বেগ মানমন্দির। পঞ্চদশ শতকে তৈমুরি শাসক ও প্রখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী উলুগ বেগ এটি নির্মাণ করেন। এর ধ্বংসাবশেষ আজও মধ্যযুগীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিস্ময়কর অগ্রগতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
উজবেকিস্তানের স্থাপত্যরীতির আরেক অনন্য উদাহরণ খিভার কালতা মিনার। ঊনবিংশ শতকে খিভার খানের নির্দেশে ৭০ মিটার উঁচু একটি মিনার তৈরির পরিকল্পনা করা হলেও এর নির্মাণকাজ অসমাপ্ত থেকে যায়। তবে স্বতন্ত্র নকশা ও ব্যতিক্রমী রঙের কারণে এই অসমাপ্ত মিনারটিই আজ খিভা শহরের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশ কিরগিজস্তানে রয়েছে আধ্যাত্মিক গুরুত্ববহ সুলাইমান-টু পর্বত। স্থানীয়ভাবে বিশ্বাস করা হয়, এই পর্বতের একটি গুহায় নবী সুলাইমান (আ.)-এর কবর রয়েছে। এখানকার একটি পবিত্র শিলাকে ঘিরে লোকবিশ্বাস প্রচলিত আছে যে, কোনো নারী এর ওপর দিয়ে হেঁটে গেলে তিনি সুস্থ সন্তান লাভ করেন।

