নওগাঁয় আলুর আকস্মিক দরপতন হওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন থেকে শুরু করে হিমাগারে সংরক্ষণ পর্যন্ত যে খরচ হয়েছে, বর্তমান বাজারদর তার চেয়ে কেজিপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কম। বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় অনেকে হিমাগার থেকে আলু তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন, এমনকি লোকসানের ভয়ে হিমাগার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগও এড়িয়ে চলছেন।
জেলার হিমাগারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি আলু জাতভেদে ১৪ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর আলু উৎপাদন এবং হিমাগারে রাখা পর্যন্ত প্রতি কেজিতে তাদের খরচ হয়েছে ২৫ থেকে ২৬ টাকা। ফলে ৬০ কেজির প্রতি বস্তা আলুতে লোকসান দাঁড়িয়েছে ৬০০ থেকে ৬৬০ টাকা।
বদলগাছী উপজেলার কৃষক রাসেল রানা এবার ২০০ বস্তা আলু হিমাগারে রেখেছিলেন। তিনি বলেন, প্রতি বস্তায় হিমাগার ভাড়া, বস্তার দাম, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু এখন সেই আলুর বস্তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়।
একই রকম সংকটে পড়েছেন ব্যবসায়ীরাও। সদর উপজেলার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম মৌসুমে ১৬-১৭ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৭০০ বস্তা আলু কিনে হিমাগারে রেখেছিলেন। তিনি জানান, ৩০ অক্টোবরের মধ্যে আলু তোলার শেষ সময় হলেও বর্তমান দামে বিক্রি করলে তার প্রায় ১০ লাখ টাকা লোকসান হবে। আরেক ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, লোকসানের ভয়ে তিনি তার মজুত করা ১ হাজার ২০০ বস্তা আলু থেকে একটিও তোলেননি এবং ভাড়া পরিশোধের আশঙ্কায় হিমাগার কর্তৃপক্ষের ফোনও ধরছেন না।
এই পরিস্থিতির কারণে হিমাগারগুলোও বিপাকে পড়েছে। কাঁঠালতলী এলাকার মাহমুদ হোসেন কোল্ডস্টোরেজের ব্যবস্থাপক মাসুদ হোসেন জানান, তাদের হিমাগারের ধারণক্ষমতা ৩২ হাজার বস্তা হলেও এখনো ৮৫ শতাংশ আলু রয়ে গেছে। তিনি বলেন, “বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও কৃষক-ব্যবসায়ীরা আলু তুলছেন না। ভাড়া দেওয়ার ভয়ে অনেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।”
বাংলাদেশ কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএসএ) তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নওগাঁর আটটি হিমাগারে প্রায় ১৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন আলু (২ লাখ ৪০ হাজার বস্তা) সংরক্ষণ করা হয়েছে। কেজিপ্রতি ১০ টাকা লোকসান ধরলে শুধু জেলার হিমাগারগুলোতেই ক্ষতির প্রাথমিক পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ২৫ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে।

