শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। স্পট মার্কেটে আউন্সপ্রতি সোনার দাম দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় হাজার ৪১ দশমিক ৮০ ডলার।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী শুক্রবার) সোনার দাম আউন্সপ্রতি বেড়েছে ১১৪ দশমিক ৮৩ ডলার। গত এক মাসে সোনার দাম বেড়েছে ৩০৭ দশমিক ৫৯ ডলার।

এপ্রিল মাসে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সোনার আগাম দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ৪৬ দশমিক ৩০ ডলারে উঠেছে।

তবে বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারের চিত্র ছিল ভিন্ন। মার্কিন শেয়ারবাজারে বড় পতনের পর বিক্রির চাপ বাড়ায় সোনার দর প্রায় ৩ শতাংশ কমে যায়। সোনার দাম আউন্সপ্রতি পাঁচ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে। ফলে সোনার দাম এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে আসে। খবর ইকোনমিক টাইমস।

এদিকে রুপাও অনেকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৭৮ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছায়। যদিও তার আগের দিন রুপার দরপতন হয় ১১ শতাংশ। এত বড় দরপতনের পর রুপার এই ঘুরে দাঁড়ানো উল্লেখযোগ্য। তার পরও দেখা যাচ্ছে, সপ্তাহ শেষে রুপার মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে ০ দশমিক ৭ শতাংশ।

রুপার সঙ্গে প্লাটিনামের দামও শুক্রবার বেড়েছে। পশ্চিমা পৃথিবীর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শুক্রবার প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৩৩ দশমিক ৯৯ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৬১ দশমিক ৯৭ ডলারে দাঁড়ায়। তবে সাপ্তাহিক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, গত সপ্তাহে উভয় ধাতুর দামই কমেছে।

এদিকে গত জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গতি ফিরেছে। প্রতাশ্যার চেয়ে বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে। এতে বেকারত্বের হার কমেছে। সেই সঙ্গে জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতির হারও কমেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, শ্রমবাজার শক্তিশালী ও মূল্যস্ফীতি কমছে—উভয়ই ইতিবাচক। তবে নীতি সুদহার দ্রুত কমানো হলে চাহিদা বেড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা নীতি সুদহার কমানোর আশা করলেও ফেড সম্ভবত আরও ধৈর্য ধরবে।

তবে বাজারে ধারণা, চলতি বছর ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট করে দুই দফায় সুদহার কমানো হতে পারে। প্রথমবার কমানো হবে জুন মাসে। সাধারণত সুদের হার কম থাকলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেড়ে যায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দাম আউন্সপ্রতি পাঁচ হাজার ডলার একধরনের ‘মানসিক সীমা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সীমা ভেঙে গেলে দামের দ্রুত উত্থান–পতন হয়, বিশেষ করে যখন অস্থিরতা বেশি থাকে। সম্প্রতি শেয়ারবাজারের পতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সোনার দাম কমেছে, তেমন কোনো সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রণোদনা তখন ছিল না।

দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, চলতি বছরে সোনার দাম ছয় হাজার ডলার স্পর্শ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কোন দিকে যায়, মূল্যস্ফীতির গতি কেমন থাকে বা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কতটা অনিশ্চয়তা থাকে—এসবের ওপর নির্ভর করছে সোনার দাম কতটা দ্রুত ছয় হাজার ডলার স্পর্শ করবে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সোনা কেবল মুনাফাভিত্তিক সম্পদ নয়; অনেক দেশের জন্য এটি কৌশলগত রিজার্ভ। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যদি ধারাবাহিকভাবে সোনা ক্রয় অব্যাহত রাখে, তাহলে সোনার দাম ছয় হাজার ডলার পেরিয়ে যেতেই পারে।

এদিকে লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (এলএমবিএ) বার্ষিক পূর্বাভাস জরিপে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০২৬ সালে সোনার দাম সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

Share.
Exit mobile version