ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুঃসময় যেন কাটছেই না। ব্রেন্টফোর্ডের মাঠে ৩-১ গোলের হতাশাজনক হারে মৌসুমের শুরুটা আরও বিবর্ণ হলো দলটির জন্য। ব্রুনো ফার্নান্দেজের পেনাল্টি মিস আর রক্ষণভাগের ভুলের মহড়ায় কোচ রুবেন আমোরিমের ওপর চাপ বাড়ল বহুগুণ। প্রতিপক্ষ সমর্থকদের কাছ থেকে ‘কাল সকালেই চাকরি হারাচ্ছ!’ উপহাসও শুনতে হয়েছে তাকে।

ম্যাচের ২০ মিনিটের মধ্যেই ইগর থিয়াগোর জোড়া গোলে পিছিয়ে পড়ে ইউনাইটেড। অষ্টম মিনিটে হ্যারি ম্যাগুয়ারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত ভলিতে প্রথম গোলটি করেন তিনি। এরপর ২০ মিনিটে গোলরক্ষক আলতাই বায়িন্দিরের হাত ফসকে যাওয়া বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এর ছয় মিনিট পরই অবশ্য বেনিয়ামিন সেসকো একটি গোল শোধ করে ম্যাচে ফেরার আশা জাগিয়েছিলেন। এটি ছিল ইউনাইটেডের জার্সিতে তার প্রথম গোল।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার সবচেয়ে বড় সুযোগটি নষ্ট করেন ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ। ৭২ মিনিটে ব্রায়ান এমবেউমোকে নাথান কলিন্স ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ইউনাইটেড। কিন্তু ফার্নান্দেজের নেওয়া শটটি অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ব্রেন্টফোর্ডের গোলরক্ষক কেলাহার।

এই হার প্রিমিয়ার লিগে ইউনাইটেডের নাজুক অবস্থাকে আরও স্পষ্ট করেছে। ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে লিগ শুরুর পর এটিই তাদের সবচেয়ে বাজে সূচনা। চলতি মৌসুমে খেলা ছয় ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই হেরেছে দলটি, জয় মাত্র দুটিতে এবং ড্র একটিতে।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে পাল্টা আক্রমণ থেকে মাথিয়াস ইয়েনসেন ব্রেন্টফোর্ডের হয়ে তৃতীয় গোলটি করলে ইউনাইটেডের পরাজয় নিশ্চিত হয়। ম্যাচ শেষে কোচ রুবেন আমোরিমের অসহায়ত্ব এবং খেলোয়াড়দের নত মস্তকে মাঠ ছাড়ার দৃশ্য ছিল ক্লাবের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতীক। বিশেষ করে, পেনাল্টি নষ্ট করা ব্রুনো ফার্নান্দেজের ছলছলে চোখ আর লজ্জায় মাঠ ছাড়ার দৃশ্য সমর্থকদের হতাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

Share.
Exit mobile version