সরবরাহ কমে দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট রোজার আগেই কেটে যাবে বলে আশা করছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

বেসরকারি এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে তাদের সম্ভাব্য আমদানি তথ্যের ভিত্তিতে এমন প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন উপদেষ্টা।

মঙ্গলবার রাজধানীর রেল ভবনে এ বৈঠকে এলপিজি অপারেটরগুলোর সংগঠন লোয়াব জানায়, সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে জানুয়ারির বাকি সময় ও ফেব্রুয়ারিতে দেশে মোট ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭০০ টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি করা হবে।

এলজিপি আনার এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রোজার আগেই চলমান এলপিজি সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে উপদেষ্টা ও অপারেটরের বরাতে বৈঠকের পর মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

বৈঠকে উপদেষ্টা নির্বাচনের আগে ও রোজার সময় যেন এলপিজির কোনো ঘাটতি না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।

দাম বেড়ে দ্বিগুণ হলেও দেশজুড়ে চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি মিলছে না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এ গ্যাসনির্ভর গ্রাহকরা।

সরবরাহ সংকটের কারণে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে সংকট চলছে এক মাসের বেশি সময় ধরে। আকারভেদে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

সরকার এলপিজির দাম নির্ধারণ করে দিলেও সেই দরে বাজারে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। বাসাবাড়ি ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্নার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

এমন প্রেক্ষাপটে জরুরি এ বৈঠকে আমদানি বাড়াতে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে এলপিজি আমদানির যে প্রতিশ্রুতি অপারেটররা দিয়েছেন, তা যেন বাস্তবে প্রতিফলিত হয়।

অপারেটরদের দাবি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিরূপ পরিস্থিতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

তবে সংকটের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত মূল্য বাড়ানো হচ্ছে এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি তাদের।

তারা বলেন, জানুয়ারিতে নির্ধারিত ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬০০ টন এলপিজি আমদানি নিশ্চিত করা গেলে সংকট অনেকটাই প্রশমিত হবে। ফেব্রুয়ারিতে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১০০ টন আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।

সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে সর্বাধিক এলপিজি আমদানির পরিকল্পনা করেছে মেঘনা ফ্রেশ এলপিজি লিমিটেড (৩০ হাজার টন), যমুনা স্পেসটেক জয়েন্ট ভেঞ্চার লিমিটেড (২৭ হাজার ৫০০ টন) এবং ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড (২৫ হাজার টন)। ফেব্রুয়ারিতে সর্বোচ্চ ৪৪ হাজার টন আমদানির ঘোষণা দিয়েছে যমুনা স্পেসটেক। এছাড়া মেঘনা ফ্রেশ ও ওমেরা যথাক্রমে ৩০ হাজার ও ২৫ হাজার টন আমদানির পরিকল্পনা করেছে।

Share.
Exit mobile version