ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৫ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে যেতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান রাজি হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুই দেশের কর্মকর্তারা।
সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের অনুরোধে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (দিবাগত) মধ্যরাত থেকে এ যুদ্ধবিরতি শুরু হবে বলে বুধবার জানিয়েছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার।
তবে এর মধ্যেও আফগানিস্তান সীমান্তে কোনো হামলা চালালে, কোনো ড্রোন হামলা হলে বা পাকিস্তানের ভেতর কোনো সন্ত্রাসী হামলা হলে ইসলামাবাদ তাৎক্ষণিকভাবে নতুন তীব্রতায় যুদ্ধ শুরু করবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তারার এ হুমকি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
তার ঘোষণার কিছু সময় পর আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের এক মুখপাত্রও জানান, তারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সাময়িক বিরতি দিতে যাচ্ছেন।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কাবুলে এক মাদক নিরাময় কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে আফগানিস্তানের এ অভিযোগের কয়েক ঘণ্টা পরই এ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এল।
পাকিস্তান মাদক নিরাময় কেন্দ্রে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা কেবল ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো এবং সামরিক স্থাপনাগুলোতেই’ হামলা চালাচ্ছে।
এদিকে বুধবার জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা দুই হাজার শয্যাবিশিষ্ট ওমর অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে হামলার ঘটনায় অন্তত ১৪৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে।
পাকিস্তানি বিমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় ফেব্রুয়ারির শেষভাগে আফগান তালেবান দুই দেশকে পৃথক করা ২ হাজার ৬৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ বেধে যায়।
ইসলামাবাদ বলছে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হওয়া একাধিক সন্ত্রাসী হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীরা আফগানিস্তানে আশ্রয় প্রশ্রয় পাচ্ছে। অন্যদিকে আফগান তালেবান বলছে, পাকিস্তান নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই কাবুলের বদনাম করছে।
দুই দেশের মধ্যে গত দুই বছরে একাধিকবার সীমান্ত সংঘাত দেখা গেছে। এসব সংঘাতে পাকিস্তান নিয়মিতই আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালিয়েছে।
সংঘাতের কারণে এমনিতেই অর্থনৈতিকভাবে ভয়াবহ দুর্দশায় থাকা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে উদ্বাস্তুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। যুদ্ধবিরতির জন্য বিভিন্ন দেশ ইসলামাবাদ আর কাবুলকে বারবার আহ্বান জানালেও দুই দেশের কেউই তাতে কান দিচ্ছে না।
দিনকয়েক আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেছেন, “ক্রমবর্ধমান সংঘাত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে এবং ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও কল্যাণের ওপর হুমকি বাড়িয়ে তুলছে।”
“উত্তেজনা কমিয়ে এনে শান্তি ও স্বাস্থ্যে অগ্রাধিকার দিতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমি,” ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় আফগানিস্তানে অন্তত ৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমনটাই বলেন গেব্রেইয়েসুস।

