মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও কৌশলগতভাবে তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে ইরান। হরমুজ প্রণালিতে অন্য দেশের জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলেও নিজেদের তেলবাহী ট্যাংকার নির্বিঘ্নে পার করছে তেহরান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগের মতো প্রায় একই হারে এখনও তেল রপ্তানি করছে ইরান। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয় এবং যুদ্ধের শুরুতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।
সংঘাতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬টি জাহাজ ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। এর কিছু হামলার দায় ইরান স্বীকারও করেছে। তবে একই সময়ে নিজেদের অর্থনীতি সচল রাখা ও যুদ্ধ ব্যয় মেটাতে তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে দেশটি।
বিভিন্ন বাণিজ্যিক ডেটা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান প্রায় ১.২ থেকে ১.৩৭ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে, যা দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেলের কাছাকাছি। যদিও গত বছর তাদের গড় রপ্তানি ছিল আরও বেশি।
স্যাটেলাইট চিত্র ও ট্যাংকার ট্র্যাকিং তথ্য বলছে, ইরানের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র খার্ক দ্বীপ এখনও কার্যকর রয়েছে এবং সেখান থেকে নিয়মিত তেল লোড করা হচ্ছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে অনেক ইরানি জাহাজ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচল করছে, ফলে তাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইরানের তেল অবকাঠামোতে সরাসরি আঘাত হানেনি, যদিও প্রয়োজনে তা পুনর্বিবেচনার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগত কারণে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বজায় রাখাও ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ইরান একদিকে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে নিজেদের জ্বালানি রপ্তানি অব্যাহত রেখে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় করছে—যা চলমান সংঘাতে তাদের একটি বড় কৌশলগত শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

