দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দণ্ডিত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে শত শত ইমেইল আদানপ্রদানের তথ্য ফাঁস হওয়ার পর সৃষ্ট চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন ছয় মহাদেশে বন্দর ব্যবসায় জড়িত ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্রধান সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েম।
শুক্রবার দুবাইভিত্তিক এই লজিস্টিক জায়ান্ট এক ঘোষণায় জানায়, সুলায়েম তাদের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার পদত্যাগ ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’ হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে এসা কাজিম এবং প্রধান নির্বাহী হিসেবে ইউভরাজ নারায়ণের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
পদত্যাগের পর ডিপি ওয়ার্ল্ড-এর ওয়েবসাইট থেকেও সুলায়েমের ছবি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
ফাঁস হওয়া নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য
সম্প্রতি প্রকাশিত নথি ও বিবিসির বিশ্লেষণ বলছে, ২০০৭ সাল থেকেই এপস্টেইনের সঙ্গে সুলায়েমের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তাদের মধ্যে ব্যবসা, রাজনীতি, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য এবং এমনকি কুরুচিপূর্ণ কৌতুক নিয়েও ইমেইল বিনিময় হয়েছে।
২০১৩ সালের এক ইমেইলে এপস্টেইন সুলায়েমকে তার ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধুদের একজন’ আখ্যা দিয়েছিলেন। তারা বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় ব্যবসা নিয়ে কথা বলেছেন, দুবাইয়ে ইসলামিক ‘ডিজিটাল’ মুদ্রা প্রচলনের কথাও এসেছে তাদের ইমেইলগুলোতে।
নিজের, মেয়ের এবং পরিবারের বিভিন্ন সদস্য ও বন্ধুদের স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়েও সুলায়েম এপস্টেইনের কাছ থেকে পরামর্শ চেয়েছেন।
নথিতে আরও দেখা যায়, সুলায়েম এবং এপস্টেইন নারীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য বিনিময় করতেন। ২০১৭ সালের এক ইমেইলে সুলায়েম তার জনৈক ‘২২ বছর বয়সী উজবেক’ বান্ধবীর কথা উল্লেখ করে বড়াই করলে এপস্টেইন পাসপোর্টের বরাত দিয়ে তার বয়স সংশোধন করে লেখেন, “তার বয়স এখন ২৩, বুড়ি।”
সুলায়েমের নাম এপস্টেইন নথিতে আসার পর থেকেই ডিপি ওয়ার্ল্ডের ওপর ব্যবসায়িক চাপ বাড়তে থাকে।
ব্রিটিশ সরকারের উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থা ও কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম পেনশন ফান্ড ডিপি ওয়ার্ল্ড-এ নতুন বিনিয়োগ স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। ডিপি ওয়ার্ল্ড থেকে অনুদান পাওয়া প্রিন্স উইলিয়ামের ‘আর্থশট’ প্রকল্পও যুক্তরাজ্যের চ্যারিটি কমিশনের নজরে আনা হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, এপস্টেইন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সুলায়েমকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেন। এর মধ্যে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক এবং ডনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যাননের নামও রয়েছে।
২০০৯ সালে লন্ডনের একটি বন্দর পরিচালনার চুক্তি পেতে যুক্তরাজ্যের তৎকালীন বাণিজ্য সচিব লর্ড ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে সুলায়েমের বৈঠকের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন এপস্টেইন।
যৌন অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পরও এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছিলেন সুলায়েম, যা অন্তত ২০১৭ পর্যন্ত ছিল বলে ইমেইল বলছে। এর দুই বছর পর কারাগারে এপস্টেইন ‘আত্মহত্যা’ করেন।

