বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছে বিএনপি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির–এর বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউআইওএন মঙ্গলবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিএনপির বিপুল বিজয়ের পর এই উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমানোর একটি কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে যে শীতলতা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক সম্প্রীতির ইঙ্গিত মিলছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
হুমায়ুন কবির বলেন, “আঞ্চলিক বিষয়গুলো আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি তারেক রহমানের পররাষ্ট্রনীতির একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অংশ। আমরা এই অঞ্চলকে একটি প্রভাবশালী ও সহযোগিতামূলক পরিসরে রূপ দিতে চাই। শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশগুলো অবশ্যই অগ্রাধিকার পাবে। সময় স্বল্প হলেও আমরা আন্তরিক।”
এই আমন্ত্রণকে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের প্রচেষ্টায় ‘সৌহার্দ্যের বার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, “আপনি যখন কাউকে আমন্ত্রণ জানান, তখন তার উপস্থিতি প্রত্যাশা করেন। এটি পারস্পরিক সদিচ্ছার প্রতিফলন।”
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ‘সুষম ও বাস্তববাদী’ নীতি গ্রহণ করবে বলেও জানান তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার বহুপাক্ষিক ফোরামগুলোর কার্যকারিতা জোরদারের কথা উল্লেখ করেন।
ডব্লিউআইওএন আরও লিখেছে, বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে অভিনন্দন বার্তা আসছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই বিজয়কে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বর্ণনা করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি।
এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ‘গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল’ বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থনের কথা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, “আমাদের বহুমুখী সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো এগিয়ে নিতে আপনার সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ।”

