কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন বিতর্কে জড়িয়ে ক্ষমা চেয়েও রাজনৈতিক চাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। একের পর এক জ্যেষ্ঠ সহযোগীর পদত্যাগে ডাউনিং স্ট্রিটে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা, যার মধ্যেই স্টারমারের পদত্যাগের দাবি প্রকাশ্যে তুলেছেন স্কটিশ লেবার পার্টির নেতা আনাস সারওয়ার।
সোমবার আকস্মিক সংবাদ সম্মেলনে সারওয়ার বলেন, “এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অবসান হওয়া দরকার। ডাউনিং স্ট্রিটের নেতৃত্বে পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।” তার এই বক্তব্য স্টারমারের নেতৃত্বকে গুরুতর সংকটে ফেলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সারওয়ার অভিযোগ করেন, ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে ‘একাধিক গুরুতর ভুল’ করা হয়েছে, যার খেসারত দিচ্ছে লেবার পার্টি। তিনি স্টারমারকে ব্যক্তিগতভাবে ‘ভদ্রলোক’ হিসেবে বর্ণনা করলেও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান নেতৃত্ব আগামী মে মাসে অনুষ্ঠেয় স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবারের জয়ের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তার মতে, এই মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর উচিত দলের চেয়ে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
এর আগে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের বক্তব্যে বিশ্বাস করে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চান প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। ওই বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করেন তার চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি।
সমালোচকদের দাবি, এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও তাকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত করার সিদ্ধান্তে ম্যাকসুইনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। চাপের মুখে নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করেন তিনি। এর পরদিনই পদ ছাড়েন স্টারমারের যোগাযোগ প্রধান টিম অ্যালান। শীর্ষ দুই সহযোগীর এই পদত্যাগ স্টারমারের নেতৃত্বকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে।
স্কটিশ লেবার সূত্রগুলোর দাবি, এপস্টেইন–ম্যান্ডেলসন কেলেঙ্কারি এবং প্রধানমন্ত্রীর একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত স্কটল্যান্ডে দলের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নামিয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি) ও রিফর্ম পার্টির পেছনে পড়ে লেবার এখন তৃতীয় অবস্থানে।
সারওয়ার জানান, তিনি সোমবার সকালে ব্যক্তিগতভাবে স্টারমারের সঙ্গে কথা বলে তাকে পদত্যাগের অনুরোধ করেছেন। তবে এ বিষয়ে তাদের মধ্যে কোনো ঐকমত্য হয়নি বলে জানান তিনি।
এদিকে ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, স্টারমার পদত্যাগ করবেন না এবং তিনি কাজেই মনোযোগী আছেন। মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি প্রথম ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে প্রকাশ্যে স্টারমারের পক্ষে অবস্থান নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “১৮ মাস আগে কিয়ার স্টারমার বিশাল ম্যান্ডেট পেয়েছেন। যুক্তরাজ্যকে পরিবর্তনের লক্ষ্য থেকে আমাদের সরে আসা উচিত নয়।”
তবে মন্ত্রিসভার এক সদস্য গার্ডিয়ানকে বলেন, এই মুহূর্তে নেতৃত্বের লড়াই শুরু করা হবে ‘চরম দায়িত্বহীনতা’। অন্যদিকে, ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার এলুনেড মরগান এ বিষয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গেছেন। সাবেক উপ–লেবার নেতা আঙ্গেলা রায়নার এমপিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে স্কটল্যান্ডের ৫৭টি আসনের মধ্যে ৩৭টিতে জয় পেয়েছিল লেবার পার্টি। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আসন্ন মে মাসের নির্বাচনে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন সারওয়ার। তবে বর্তমান কেলেঙ্কারি ও স্টারমারের নেতৃত্ব ঘিরে অনাস্থা সেই হিসাব পাল্টে দিয়েছে। স্কটিশ লেবারের একাংশের আশঙ্কা, স্টারমার পদে বহাল থাকলে স্কটল্যান্ডে দলের জয় কঠিন হয়ে পড়বে।

