যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। তবে এ নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর এখনো পূর্ণ আস্থা রাখতে পারছেন না তারা।
বিশ্বনেতাদের মতে, যুদ্ধবিরতি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও ট্রাম্পের হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তন ও আগ্রাসী বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তার যুদ্ধংদেহী অবস্থান বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ ও কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “আজকের পৃথিবী কি গতকালের চেয়ে ভালো? নিঃসন্দেহে। তবে ৪০ দিন আগের তুলনায় ভালো কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।”
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “যুদ্ধবিরতি ভালো খবর, বিশেষ করে তা যদি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করে।” তবে তিনি ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে বলেন, “কেউ পৃথিবীতে আগুন লাগিয়ে পরে এক বালতি পানি নিয়ে এলে তার প্রশংসা করা যায় না।”
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজও যুদ্ধবিরতিকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি ট্রাম্পের আগের হুমকির সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ ধরনের ভাষা ব্যবহার সমীচীন নয়।
বিশ্বনেতারা বিশেষভাবে উদ্বেগ জানিয়েছেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে সৃষ্ট অস্থিরতা নিয়ে। ইরান কয়েকদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যায় এবং বহু দেশ অর্থনৈতিক চাপে পড়ে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, “এখন আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিশ্চিত করা জরুরি। কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমেই বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট ঠেকানো সম্ভব।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের পরিবর্তনশীল অবস্থান ও অনির্দেশ্য নীতির কারণে বিশ্বনেতারা এখনো দোটানায় রয়েছেন। তারা যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন।

