পাকিস্তানকে যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন বিক্রি করা হলে তাতে কৌশলগতভাবে ভারতই লাভবান হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার একজন শীর্ষ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ। চীনের তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের জন্য রাশিয়া থেকে পাকিস্তানের সম্ভাব্য ইঞ্জিন কেনা নিয়ে ভারতে বিতর্ক সৃষ্টির পর এই নতুন ব্যাখ্যা সামনে এলো।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘প্রিমাকভ ইনস্টিটিউট’-এর প্রধান পিয়েত্র টপিচকানভ ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভারতের জন্য দুটি বড় সুবিধা রয়েছে।
তার মতে, প্রথমত, এটি প্রমাণ করবে যে, চীনের সহায়তায় নির্মিত যুদ্ধবিমানের জন্যেও পাকিস্তান ও চীন উভয়ই রাশিয়ার ইঞ্জিন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। তারা এখন পর্যন্ত রাশিয়ার আরডি-৯৩ ইঞ্জিনের কার্যকর বিকল্প তৈরি করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ত, রাশিয়া যদি পাকিস্তানকে এই ইঞ্জিন বিক্রি করে, তবে সেই প্রযুক্তি ভারতের কাছে পরিচিত এবং অনুমানযোগ্য হবে। কারণ, ভারতীয় বিমানবাহিনীর মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানগুলোতেও একই ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়, যা রাশিয়া ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত।
এর আগে, ভারতের কৌশলগত মিত্র রাশিয়া তার প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারে—এমন খবরে ভারতে প্রশ্ন উঠেছিল। সে সময় রাশিয়া জানিয়েছিল, এই বিষয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো নিশ্চিত চুক্তি হয়নি।
এই বিতর্ক এমন এক সময়ে চলছে যখন ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা এবং জ্বালানি খাতে সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরে দুই দেশের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারত সফরে আসতে পারেন, যেখানে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হবে।
উল্লেখ্য, ভারত রাশিয়ার অন্যতম প্রধান অস্ত্র আমদানিকারক দেশ। সম্প্রতি রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভারত ব্যবহার করেছে বলে জানা যায়।

