গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ‘অবৈধ, অমানবিক ও একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে দেশটিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধের জন্য ফিফা ও উয়েফার কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে তুরস্কের ফুটবল ফেডারেশন। শুক্রবার তুরস্কের সংবাদমাধ্যমগুলো ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম হাজিওসমানোউলুর এই পদক্ষেপের খবর নিশ্চিত করে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আনাদোলু এজেন্সিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, হাজিওসমানোউলু তার চিঠিতে লিখেছেন, ‘সভ্যতার মূল্যবোধ ও শান্তির রক্ষক দাবি করলেও খেলাধুলার দুনিয়া ও ফুটবল প্রতিষ্ঠানগুলো লম্বা সময় ধরে নীরবতা পালন করছে।’ চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি আরও জরুরি ও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই চিঠি এমন এক সময়ে পাঠানো হলো, যখন ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা আগামী সপ্তাহে ইসরায়েলকে তাদের টুর্নামেন্ট থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়ে বৈঠকে বসতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এমন কোনো নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত তাদের কাছে নেই এবং জাতীয় দল আসন্ন বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদন দেয়। এরপর জাতিসংঘের একদল বিশেষজ্ঞ এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্রীড়াঙ্গনে নিষেধাজ্ঞার দাবি তুলেছিলেন।
ইসরায়েল অবশ্য বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির দাবি, গাজায় তাদের সামরিক অভিযান আত্মরক্ষার অংশ এবং তারা জাতিসংঘের প্রতিবেদনটিকে ‘বিকৃত ও মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
উল্লেখ্য, কয়েকটি দেশ ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় ১৯৭৪ সালে ভোটাভুটির মাধ্যমে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) থেকে দেশটিকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। ১৯৯১ সালে উয়েফা ইসরায়েলের জাতীয় দলকে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেয় এবং ১৯৯৪ সালে দেশটি উয়েফার পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে।

