বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটের ঘটনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘দলিল’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ সময়ের ঘটনা নিয়ে গবেষণা করলে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসতে পারে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অন্যতম ‘অনিবার্য’ চরিত্র। তিনি হঠাৎ করে স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, বরং দীর্ঘ সময় ধরে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও মানসিক প্রস্তুতি ধারণ করেছিলেন।
জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক প্রবন্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই লেখাটি থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে স্বাধীনতার চিন্তা ও চেতনা তার মধ্যে অনেক আগে থেকেই গড়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, “কথাগুলো আমার নয়, কারো মনগড়া নয়—আমরা তার নিজের লেখনী থেকেই এসব জানতে পারছি।”
প্রবন্ধটির শেষ অংশ উদ্ধৃত করে তারেক রহমান বলেন, সেখানে উল্লেখ রয়েছে—১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিট, যা বাঙালির ইতিহাসে রক্তে লেখা একটি মুহূর্ত। তিনি মনে করেন, এই নির্দিষ্ট সময়ের ঘটনাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা, আলোচনা ও বিশ্লেষণ চলবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে গবেষণা বা সমালোচনার নামে এমন কিছু করা উচিত নয়, যা বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসকে খাটো করে।
তারেক রহমান বলেন, “অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ হয়ে যায়, আর অতীতকে পুরোপুরি ভুলে গেলে দুই চোখই অন্ধ হয়ে যায়। তাই আমাদের অতীতকে মনে রাখতে হবে, আবার ভবিষ্যতের দিকেও এগিয়ে যেতে হবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এসব প্রচেষ্টা থেকেই প্রমাণিত হয় যে তিনি মুক্তিযুদ্ধের একজন গুরুত্বপূর্ণ ও অনিবার্য চরিত্র।
সভায় উপস্থিত তরুণ প্রজন্মের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানা এবং তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সবার দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়ে একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

