জুলাই আন্দোলন ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামিকে জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে এক প্রসিকিউটরের ঘুষ দাবির অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটি কাজ শুরু করেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম বুধবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন।
পদত্যাগী প্রসিকিউটর রেজা তালাকুদারের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠার পর মঙ্গলবার পাঁচ সদস্যের এই ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম এই কমিটির প্রধান।
আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমাদের সামনে একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে বা একটি অভিযোগ এসেছে, যে অভিযোগটাকে আমরা হালকাভাবে দেখছি না। একই সাথে এই ট্রাইব্যুনালে আরও যদি কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, এই সমস্ত বিষয়ে আমরা একটি বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটন করবার জন্য আমার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেছি।
“এখানে সামনে আরও তিনজন আছেন। আরও একজন আছেন, তিনি আজকে শারীরিক কারণে অনুপস্থিত। আমরা পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি করেছি। আজকে আমরা চারজন একত্রে বসেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে আমাদের প্রসিকিউশন টিমের কোনো সদস্য বা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিবর্গ যদি কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকেন, সেই বিষয়টি আমরা তথ্য উদ্ঘাটন করব।
“যদি তাদের বিরুদ্ধে সাবস্টেনটিভ কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আমরা যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
ঘটনাটি চট্টগ্রামের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিমকে নিয়ে। তিনি জুলাই আন্দোলনের সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার আসামি হয়ে কারাগারে আছেন। ফজলে করিমের জামিন নিয়ে তার এক আইনজীবীর সঙ্গে পদত্যাগী প্রসিকিউটর সাইমুমম রেজা তালুকদারের কথপোকথনের একটি অডিও ফাঁস হয়। যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দৈনিক প্রথম আলো। অভিযোগ ওঠে রেজা তালুকদারের ‘ঘুষের বিনিময়ে’ আসামির জামিন করিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছিলেন।
এরপর মঙ্গলবার প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম হুঁশিয়ার করে বলেছেন, প্রসিকিউটরদের দায়িত্ব পালনে কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না।
ভবিষ্যতে কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে সামান্য অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সেদিনই কমিটি গঠনের কথা বলেছিলেন তিনি।

