ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধ থেকে একটি ‘সম্মানজনক প্রস্থান’ বা এক্সিট স্ট্র্যাটেজি খুঁজে বের করার জন্য তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা চাপ দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ভেতরের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ট্রাম্পের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা—বিশেষ করে অর্থনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মুর—বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তাদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। এতে মার্কিন অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হবে এবং আগামী মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়বে।
এ কারণে উপদেষ্টারা ট্রাম্পকে দ্রুত যুদ্ধ থেকে সরে আসার পথ খুঁজতে এবং “আমাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে”—এমন ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পরামর্শ দিচ্ছেন।
অন্যদিকে সিএনএন ও বিবিসি ট্রাম্পের বক্তব্যে দেখা দেওয়া ‘মিশ্র বার্তা’র দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ট্রাম্প একদিকে বলছেন, যুদ্ধ “খুব শিগগিরই শেষ হবে” এবং মার্কিন বাহিনী “নির্ধারিত সময়ের আগেই অগ্রগতি অর্জন করেছে।” আবার একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, ইরান যদি আরও কোনো বড় পদক্ষেপ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র এমনভাবে আঘাত হানবে যে “ইরান নামটাই আর কেউ শুনবে না।”
বিবিসির একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী বক্তব্য মূলত বাজারে অস্থিরতা কমানো এবং রাজনৈতিক বার্তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল হতে পারে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই সংঘাতের মানবিক ও আঞ্চলিক প্রভাবের দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরান সরাসরি পিছু না হটে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা ধরে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এক ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চলতে থাকলে তা মার্কিন অর্থনীতির জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে হিন্দুস্তান টাইমস ও টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, দক্ষিণ এশীয় বিশ্লেষকদের মতে এখন মূল উদ্বেগ তেলের দাম ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি। এসব প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের উপদেষ্টারা নেপথ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে সামরিক অভিযান থামিয়ে ‘বিজয় ঘোষণা’ করার কৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি দ্রুত পিছু না হটে, তাহলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। আর সেই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও রাজনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—যা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ট্রাম্পের উপদেষ্টারা।

