ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামী আমির শফিকুর রহমান দেশবাসীকে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আল্লাহ পরিবর্তনের এক মহা সুযোগ আমাদেরকে দিয়েছেন। আসুন আমরা তা কাজে লাগাই এবং বিগত দিনের রাজনীতি পরিহার করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ি, যেখানে সবাই মান, ইজ্জত ও মর্যাদা নিয়ে বাস করবে।”
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সম্প্রচার করা হয়।
শফিকুর রহমান বিশেষভাবে তরুণ ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজটি তোমরাই চালাবে। তোমরা হবে পাইলট, আমরা বসবো প্যাসেঞ্জার সিটে। হে তরুণরা, এই দেশ তোমাদের হাতেই গড়ে উঠবে এবং মানাবে।” তিনি এই দেশের ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মের হাতে ছড়িয়ে দেওয়ার গুরুত্বেও জোর দেন।
ভাষণে তিনি জামায়াতে ইসলামী সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসাবে নারীর ক্ষমতায়ন, ন্যায়বিচার, শিক্ষার সংস্কার ও অর্থনৈতিক সংস্কারের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সব ধর্ম ও পরিচয়ের মানুষের অধিকার রক্ষায় দল কাজ করবে এবং দেশকে শান্তিপূর্ণ ও মানবিক রাখবে।”
শফিকুর রহমান দলের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পাঁচটি বিষয়ে হ্যাঁ (সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান) এবং পাঁচটি বিষয়ে না (দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব, চাঁদাবাজি) বলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “এসব মৌলিক শর্ত ছাড়া বৈষম্যহীন, উন্নত ও নৈতিক বাংলাদেশ গঠন সম্ভব নয়।”
দেশের বিচার ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক সংস্কারের কথাও তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, “শিক্ষা হবে নৈতিকতা ও প্রযুক্তিভিত্তিক। বিচার ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে, এবং অর্থনীতি হবে বিনিয়োগবান্ধব। আমরা চাই কেউ বেকার না থাকুক এবং সমাজের সব মানুষ তাদের অধিকার ভোগ করতে পারুক।”
তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বকে ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আমরা সর্বদা দায়িত্বশীল থাকব এবং ন্যায়বিচারের পথে অঙ্গীকারাবদ্ধ থাকব।” পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে সম মর্যাদার ভিত্তিতে পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
শফিকুর রহমান নির্বাচনের দিন ভোটারদের কাছে পুনরায় আহ্বান জানান, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যদি সবাই দাঁড়িপাল্লা ও ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দেন, তাহলে আমরা প্রত্যাশার একটি দেশ গড়ে তুলতে পারব। এই পরিবর্তন আমাদের হাতেই মানাবে, অন্য কারো হাতে নয়।”

