জর্ডান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিম তীরে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ৬ কানাডীয় পার্লামেন্ট সদস্যকে (এমপি) ঢুকতে দেয়নি ইসরায়েল। এই এমপি’দের সঙ্গে আরও ২৪ জনের একটি প্রতিনিধিদল ছিল।
অলাভজনক সংগঠন ‘দ্য কানাডিয়ান-মুসলিম ভোট’ (টিসিএমভি) এর আয়োজনে ইসরায়েল ও পশ্চিম তীর সফরের অংশ হিসেবে এই এমপি ও প্রতিনিধিরা সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করছিল।
কানাডায় নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত বলেন, টিসিএমভি-র সঙ্গে ‘ইসলামিক রিলিফ ওয়ার্ল্ডওয়াইড’ এর যোগ রয়েছে। এই বেসরকারি সংগঠনটিকে ইসরায়েল সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করেছে।
তবে ইসলামিক রিলিফ ওয়ার্ল্ডওয়াইড ও তাদের কানাডা শাখা এই অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। টিসিএমভিও বলেছে যে, তাদের তহবিল এসেছে কেবল যোগ্য সব দাতাদের কাছ থেকে।
প্রবেশে বাধা পাওয়া ছয় কানাডীয় এমপির মধ্যে পাঁচজন ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির। আর ষষ্ঠ এমপি জেনি কোয়ান বামপন্থি নতুন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির। তিনি এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।
ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাট, যারা আলেনবি সীমান্ত পারাপার তত্ত্বাবধান করে, তারা সিবিসি নিউজকে বলেছে, “আগাম সমন্বয় ছাড়া আলেনবি সীমান্ত পারাপার এলাকায় পৌঁছানোর পর নিরাপত্তাজনিত কারণে ৩০ জনের ওই দলটিকে মঙ্গলবার ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
এই সিদ্ধান্তকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছে ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমস (এনসিসিএম)। সংগঠনটি জানিয়েছে, এমপি’দের পাশাপাশি তাদের কর্মী ও কমিউনিটি নেতারাও প্রতিনিধিদলটিতে ছিলেন।
এনসিসিএম জানিয়েছে, সফরের লক্ষ্য ছিল মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ বলেন, সীমান্ত পারাপারের সময় কানাডীয় নাগরিকদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কানাডা আপত্তি জানিয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালে টিসিএমভি-র আয়োজনে একইরকম একটি সফরে অংশ নেওয়া আরেক কানাডীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদলকে ইসরায়েল ও পশ্চিম তীরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি কয়েকমাসে কানাডা ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের সঙ্গে কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনিকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার পর ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির উত্তেজনা বেড়ে যায়।
তখন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের এই স্বীকৃতিকে ‘অসম্মানজনক’ আখ্যা দিয়েছিলেন।

