জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে উত্তর কোরিয়া নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করেছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিম সন জিয়ং জানিয়েছেন, পিয়ংইয়ং কখনোই এই কর্মসূচি ত্যাগ করবে না এবং এটি কোনো আলোচনার বিষয় নয়।
সোমবার দেওয়া ভাষণে কিম সন জিয়ং বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকার উত্তর কোরিয়ার সংবিধানে সুরক্ষিত। তিনি এই কর্মসূচি ত্যাগের দাবিকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্বের অধিকার হরণের সমতুল্য বলে আখ্যায়িত করেন। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম পিয়ংইয়ংয়ের কোনো সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কিম সন জিয়ং নিউইয়র্কে জাতিসংঘের বার্ষিক সাধারণ সভায় বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। এর আগে ২০১৮ সালে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিউইয়র্ক সফর করেছিলেন।
কোরীয় উপদ্বীপে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সাম্প্রতিক যৌথ সামরিক মহড়াকে দায়ী করেন উত্তর কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে, একই অধিবেশনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার মতে, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও পারস্পরিক উন্নয়নের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।
এই ঘোষণার মাত্র দু’দিন আগেই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশের পারমাণবিক সক্ষমতা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন এবং বলেন, “পারমাণবিক ঢাল ও তলোয়ারকে আরও ধারালো করতে হবে।”
উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া বর্তমানে চারটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র পরিচালনা করছে, যেগুলোর মাধ্যমে বছরে অন্তত ২০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব।
