যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত বাণিজ্যযুদ্ধের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর নতুন করে উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেছেন। গত ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়া এই পদক্ষেপে ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের আওতায় আনা হয়েছে।
এর মধ্যে ভারতের ওপর আরোপিত শুল্ক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে দেশটির ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই শুল্ক দ্বিগুণ করা হয়েছে বলে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে। এর পাশাপাশি, ‘ডি মিনিমিস’ নামে পরিচিত একটি বড় শুল্ক ফাঁকির সুযোগও বন্ধ করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই নিয়মের অধীনে ৮০০ ডলারের কম মূল্যের বিদেশি পণ্য এতদিন শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারত, যা এখন থেকে বন্ধ হলো।
ভারতের পাশাপাশি ব্রাজিলের ওপরও সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামের মতো দেশের জন্য এই হার ২০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বলিভিয়া, ইকুয়েডর, আইসল্যান্ড ও নাইজেরিয়াসহ আরও কিছু দেশের ক্ষেত্রে শুল্কহার ১৫ শতাংশ রাখা হয়েছে।
গত জুলাই মাসের শেষে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, বেশ কয়েকটি দেশ ‘অন্যায্য বাণিজ্যনীতি’র মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং এরই প্রেক্ষিতে নতুন শুল্ক আসছে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী ৭ আগস্ট মধ্যরাত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই শুল্ক কার্যকর হয়। তবে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের আগে জাহাজে ওঠা পণ্য অক্টোবরের শুরুর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালে নতুন কর থেকে ছাড় পাবে। একইসঙ্গে, উচ্চ শুল্ক এড়াতে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য পাঠিয়ে (ট্রান্সশিপমেন্ট) যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির চেষ্টা করা হলে বাড়তি ৪০ শতাংশ শাস্তিমূলক কর আরোপের বিধান রাখা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থা নতুন করে সাজানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শিল্প উৎপাদন বাড়াতে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ফেডারেল রাজস্ব বৃদ্ধিও সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

