উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাড়ি জমানো ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছে প্রধান গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাকে ছাড়িয়ে গেছে জার্মানি। মূলত ক্যারিয়ারকেন্দ্রিক লক্ষ্য, সাশ্রয়ী শিক্ষা এবং পরিবর্তিত ভিসানীতির কারণে এই পরিবর্তন এসেছে বলে ‘আপগ্রেড ট্রান্সন্যাশনাল এডুকেশন (টিএনই) রিপোর্ট ২০২৪-২৫’-এ উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জার্মানিতে ভারতীয় শিক্ষার্থী যাওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালে যেখানে এই হার ছিল ১৩.২ শতাংশ, সেখানে ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে ৩২.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে উত্তর আমেরিকার দেশ দুটিতে। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আবেদন বছরে ১৩ শতাংশ কমেছে এবং কানাডায় শিক্ষার্থী যাওয়ার হার ১৭.৮৫ শতাংশ থেকে কমে ৯.৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, তাদের বিদেশে পড়তে যাওয়ার মূল উদ্দেশ্যেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। মাত্র ১৯.৯ শতাংশ শিক্ষার্থী বিদেশে স্থায়ী নাগরিকত্বকে প্রধান লক্ষ্য বললেও, ৪৫.৭ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছেন তাদের অগ্রাধিকার হলো ক্যারিয়ার গঠন। জার্মানির শক্তিশালী অর্থনীতি এবং প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার মতো খাতে দক্ষ কর্মীর চাহিদা শিক্ষার্থীদের এই নতুন চিন্তাধারার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।

পড়াশোনার খরচ এই পরিবর্তনের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। সমীক্ষা অনুসারে, প্রায় ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী শিক্ষা ঋণের ওপর এবং ২৮ শতাংশ বৃত্তির ওপর নির্ভর করেন। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডার তুলনায় জার্মানির টিউশন ফি-মুক্ত বা স্বল্প খরচের শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি সুযোগ তৈরি করেছে।

ভারতীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির চাহিদা সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ৮৬.৫ শতাংশ। গত তিন বছরে ম্যানেজমেন্ট ও এমবিএ কোর্সের জনপ্রিয়তা ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৫.৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) বিষয়েও আগ্রহ জোরালো, যা বর্তমানে ৩৮.৯ শতাংশ।

এ বিষয়ে আপগ্রেড স্টাডি অ্যাব্রোডের ইউনিভার্সিটি পার্টনারশিপের অ্যাসোসিয়েট ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রাণিত সিং বলেন, “আজ ভারতীয় শিক্ষার্থীরা তাঁদের শিক্ষার পছন্দ সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন। তাঁরা ভূরাজনৈতিক বিষয়ে সচেতন, ব্যয়ের ক্ষেত্রে সচেতন, কঠোর ভিসাব্যবস্থা ও অনিশ্চিত শিক্ষা-পরবর্তী বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রচলিত ‘বিগ ফোর’ (অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র) এখন আর আগের মতো পছন্দের শীর্ষে নেই, বরং ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে।

Share.
Exit mobile version