বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের ছোঁয়া আর যুগোপযোগী praktisch জ্ঞানচর্চার সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। তাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক মান, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের চিত্র।

ভুটান থেকে ‘ড. মিয়ান বৃত্তি’র আওতায় নার্সিং বিভাগে পড়তে আসা কার্মা লাজিন জানান, নতুন দেশ ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তরিক পরিবেশ তাকে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, “এখানকার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যরা খুব আন্তরিক। সবাই আমাকে সহজে গ্রহণ করেছেন।” বিদেশে নার্সিং পড়ার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পেয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত এবং এখানকার শিক্ষাদান পদ্ধতির সঙ্গে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছেন বলে উল্লেখ করেন।

একইভাবে কেনিয়া থেকে পুরকৌশল বিভাগে পড়তে আসা আবদুর রাজ্জাক মোহাম্মাদ বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ। কাছের এক আত্মীয়ের পরামর্শে এখানে ভর্তি হয়ে তিনি বলেন, “এক বছর এখানে পড়ে আমি বলতে পারি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যথেষ্ট আন্তরিক।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী হামিদা আক্তারকে। অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিতে বাবার ২৫ বছরের কর্মজীবন তাকে এই পেশায় আসতে অনুপ্রাণিত করে। হামিদা জানান, “আইইউবিএটির চারটি ভিন্ন ল্যাবের মাধ্যমে ব্যবহারিক ক্লাস এবং সরাসরি নামী হোটেলে পরিদর্শনের সুযোগ আমাদের সঠিকভাবে শিখতে সাহায্য করে।”

অন্যদিকে, সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগের কথা তুলে ধরেছেন ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের নুশরাত জাহান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে থাকা সোসাইটিগুলোর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, “এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত হন, শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করেন। এতে যেমন আত্মবিশ্বাস বাড়ে, তেমনি আমরা বুঝতে পারি ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চাই।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী পাইং ম্রা চিং। তিনি জানান, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিভাগের সকল শিক্ষকের পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে। রাজেন্দ্রপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কৃষি খামার এবং ক্যাম্পাসে মাঠ গবেষণার সুযোগ তাদের পড়াশোনাকে সমৃদ্ধ করেছে। নিজের সিদ্ধান্তের যথার্থতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগ হিসেবে আইইউবিএটি থেকে আমি যতটা আশা করেছি, তার চেয়ে বেশি পেয়েছি।”

Share.
Exit mobile version