আধুনিক বিশ্বতত্ত্ব অনুযায়ী, আমাদের এই বিশাল মহাবিশ্বের কোনো নির্দিষ্ট স্থানিক কেন্দ্র বা প্রান্তবিন্দু নেই। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, গ্যালাক্সিগুলো কোনো একটি কেন্দ্রীয় বিন্দু থেকে দূরে সরে যাচ্ছে না, বরং তাদের মধ্যবর্তী স্থান নিজেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রসারিত হচ্ছে। এই প্রসারণ সব দিকে সুষমভাবে ঘটছে, যার ফলে মহাবিশ্বের কোনো একটি স্থানকে বিশেষ বা কেন্দ্রীয় হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব নয়।
প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে বিগ ব্যাংয়ের মাধ্যমে মহাবিশ্বের সূচনা হয়। তবে এটি মহাকাশের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুতে ঘটা বিস্ফোরণ ছিল না। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, বিগ ব্যাং ছিল সমগ্র স্থানের একযোগে প্রসারণের সূচনা, যা একটি অত্যন্ত ঘন ও উত্তপ্ত অবস্থা থেকে শুরু হয়েছিল। যেহেতু এই ঘটনাটি সর্বত্র একযোগে ঘটেছিল, তাই এর কোনো কেন্দ্র থাকার ধারণা অবান্তর।
এই কেন্দ্রহীনতার ধারণাটি মহাজাগতিক মূলনীতি বা ‘কসমোলজিক্যাল প্রিন্সিপাল’-এর ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই নীতি অনুসারে, বৃহৎ পরিসরে মহাবিশ্ব সমসত্ত্ব (হোমোজেনাস) ও সমদৈশিক (আইসোট্রপিক)। অর্থাৎ, এর যেকোনো অংশ অন্য যেকোনো অংশের মতোই এবং যেকোনো দিক থেকে দেখলে একে একই রকম মনে হয়। কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড, গ্যালাক্সিগুলোর বিন্যাস এবং রেডশিফটের মতো পর্যবেক্ষণলব্ধ প্রমাণ এই তত্ত্বকে জোরালোভাবে সমর্থন করে।
বিষয়টি সহজে বোঝার জন্য একটি বেলুন ফোলানোর উদাহরণ দেওয়া হয়। বেলুনের গায়ে কিছু বিন্দু এঁকে সেটিকে ফোলালে দেখা যাবে, প্রতিটি বিন্দু অন্য সব বিন্দু থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কিন্তু বেলুনের পৃষ্ঠে কোনো একটি বিন্দুকে কেন্দ্র বলা যায় না। মহাবিশ্বের প্রসারণও অনেকটা এমনই; প্রতিটি গ্যালাক্সি থেকে দেখলে মনে হবে অন্য সব গ্যালাক্সি দূরে সরে যাচ্ছে।
সুতরাং, যদিও আমরা একটি পর্যবেক্ষণযোগ্য মহাবিশ্বের মধ্যে বাস করি যার একটি সীমা রয়েছে, তবে এই সীমা কোনো বাস্তব প্রান্ত বা কেন্দ্রীয় উৎসকে নির্দেশ করে না। এটি কেবল সেই দূরত্ব পর্যন্ত, যেখান থেকে আলো এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে এসে পৌঁছাতে পেরেছে। বর্তমান বৈজ্ঞানিক মতবাদ অনুযায়ী, মহাবিশ্ব অসীম হতে পারে এবং এর কোনো বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত বা কেন্দ্রীয় অবস্থান নেই।

