যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকাকে (ভিওএ) বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ বলে রায় দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির শত শত সাংবাদিককে চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট জজ রয়েস লামবার্থ কর্তৃপক্ষকে এক সপ্তাহ সময় বেঁধে দিয়ে বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক এই সংবাদমাধ্যমটিকে পুনরায় সম্প্রচারে ফিরিয়ে আনতে হবে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার কয়েক সপ্তাহের মাথায় গত বছর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংবাদমাধ্যমটি বন্ধ করে দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি প্রচারণা মোকাবেলা করতে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ ছিল, প্রতিষ্ঠানটি ‘বামঘেঁষা’ পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ প্রচার করে। ট্রাম্প একই সঙ্গে ‘রেডিও ফ্রি ইউরোপ’ ও ‘রেডিও ফ্রি এশিয়া’র মতো মাধ্যমগুলোকেও বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
বিবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্পের নিযুক্ত ইউএসএজিএম প্রধান কারি লেক দায়িত্ব নিয়েই ভিওএ-র এক হাজারেরও বেশি কর্মীকে ছাঁটাই করেন। ছাঁটাই হওয়া এসব কর্মীর বেশিরভাগই গত বছর থেকে বেতনসহ বাধ্যতামূলক ছুটিতে ছিলেন। তাদের মধ্যে পার্সিয়ান সর্ভিসের সাংবাদিকরাও ছিলেন, কিন্তু গত বছরের জুনে ইসরায়েল ইরানে হামলার চালানোর পর তাদের আবার কাজে ডেকে নেওয়া হয়।
গত সপ্তাহে দেওয়া রায়ে বিচারক এই ছাঁটাইকে ‘স্বেচ্ছাচারী ও খামখেয়ালি’ বলে বর্ণনা করেন।
বিচারক লামবার্থ তার রায়ে বলেন, বিবাদীরা তাদের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে কোনো নীতিগত সমর্থন দেখাতে পারেনি।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ভিওএ-র তিন সাংবাদিক মামলা করেছিলেন। তাদের একজন প্যাটসি উইদাকুসওয়ারা বিচারকের এই সিদ্ধান্তে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
তবে কারি লেকের মনোনীত উত্তরসূরি সারাহ রজার্জ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রজার্জের নিয়োগের জন্যও সেনেটের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে।
বিবিসি লিখেছে, বন্ধ করে দেওয়ার আগে ভয়েস অব আমেরিকা টেলিভিশন, রেডিও এবং ডিজিটাল মাধ্যমে প্রায় ৫০টি ভাষায় সংবাদ ও অনুষ্ঠান প্রচার করত।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যে ব্যাপক সমালোচনা ও আক্রমণাত্মক অবস্থান রয়েছে, ভিওএ বন্ধের সিদ্ধান্তটি তারই অংশ ছিল বলে মনে করা হয়।

