যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি অবরোধ শুরুর যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাতে যুক্তরাজ্য যোগ দেবে না বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
বিবিসি রেডিওকে সোমবার স্টারমার বলেন, “আমরা এই অবরোধ সমর্থন করি না।” যুক্তরাজ্য ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে জড়িত হবে না বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমার দৃষ্টিতে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত এবং সম্পূর্ণ সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েকদিন ধরে আমরা আমাদের সবটুকু চেষ্টা এ লক্ষ্যেই নিয়োজিত করেছি এবং ভবিষ্যতেও তা করে যাব।”
হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের বন্দরগুলোতেও মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অবরোধে যুক্তরাজ্য অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছে।
ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ এবং সেনাদের ইরানের বন্দর অবরোধ করার কাজে ব্যবহার করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্টারমার।
ব্রিটিশ সরকারের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমরা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি সমর্থন করছি, যা বিশ্ব অর্থনীতি এবং আমাদের দেশের জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর জন্য জরুরি।”
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছিলেন, সোমবার থেকে মার্কিন নৌ বাহিনী ইরানি বন্দরগুলো অবরোধ করা শুরু করবে।
তবে স্পেনসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য মিত্রদেশগুলো ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে।
নেটো সদস্যদেশ তুরস্ক বলেছে, হরমুজ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খোলা দরকার। চীনও হরমুজ অবরোধ পরিকল্পনার সমালোচনা করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলার মধ্যে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল ইরান। পরে কিছু জাহাজকে হরমুজ পার হতে দিয়েছে ইরান।
এবার যুক্তরাষ্ট্রও হরমুজ অবরোধ করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। ট্রাম্প মনে করেন, ইরান হরমুজ প্রণালির উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চাইছে। আন্তর্জাতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করা জাহাজগুলো থেকে ইরান বেআইনি ভাবে অর্থ নিচ্ছে বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের।

