জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব হিসেবে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তাসনিম জারা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথমে দলীয় প্রার্থী হিসেবেই মনোনীত হন। কিন্তু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর সঙ্গে জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন এবং ঢাকা–৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন।
দলীয় প্রতীক ও সংগঠনগত কাঠামোর বাইরে থেকে, নতুন মুখ হিসেবে নির্বাচনে নামা ছিল তার জন্য বড় ঝুঁকি। শেষ পর্যন্ত জয় না এলেও প্রচলিত পোস্টার-নির্ভর প্রচারের বদলে ভিন্নধর্মী কৌশলে প্রচার চালিয়ে তিনি পান ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট, যা মোট প্রদত্ত ভোটের প্রায় ২১ শতাংশ—স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
ঢাকা–৯ আসনে প্রাপ্ত ভোটের দিক দিয়ে তাসনিম জারার অবস্থান তৃতীয়। এই আসন থেকে ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির হাবিবুর রশিদ। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া। তিনি পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট।
এদিকে শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নির্বাচন পরবর্তী ভাবনা জানিয়েছেন তাসনিম জারা।
বিকেল পৌনে চারটার দিকে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে জারা জানান, তিনি তার আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবকে ফোন করে শুভকামনা জানিয়েছেন। তারা গঠনমূলক শক্তি হিসেবে কাজ করবেন। তবে ক্ষতিকর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন।

তাসনিম জারা ভিন্ন ধরনের নির্বাচনী প্রচার নিয়ে প্রশংসিতও হয়েছিলেন। তার প্রচারে লাউড স্পিকার, মাইকের ব্যবহার ছিল না। তিনি গত ২৫ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার পক্ষে ভোট চাইতে ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন বলে জানিয়েছিলেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার নির্বাচনী পোর্টালে ১৯ হাজার ৭৩১ জন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিবন্ধন করেছিলেন।
ঢাকা-৯ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫৬। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৮৮ জন। অর্থাৎ প্রায় ২১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন তাসনিম জারা।
এবার ওই আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন মোট ১২ জন। এর মধ্যে তাসনিম জারাসহ দুজন নারী প্রার্থী ছিলেন। অপর নারী গণফোরামের নাজমা আক্তার পেয়েছেন ১৭১ ভোট। অপর আট প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহ ইফতেখার আহসান পেয়েছেন ৫ হাজার ৮২৭ ভোট, জাতীয় পার্টির কাজী আবুল খায়ের ১ হাজার ২০২, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. মনিরুজ্জামান ৪৬২, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) শাহীন খান ২০৪, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) মোহাম্মদ শফি উল্লাহ চৌধুরী ১২৪, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের নাহিদ হাসান চৌধুরী জুনায়েদ ১৩১, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাসুদ হোসেন ১১৮ এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) খন্দকার মিজানুর রহমান ৯৩ ভোট পেয়েছেন।

