পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর তেহরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে ইরানি প্রতিনিধি দল।
রোববার ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা মেহর জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা আলোচনার পর ইরানি প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ ছেড়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি পাকিস্তানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টার কিছুক্ষণ পরে ইসলামাবাদ ছাড়ে।
তাদের আগে শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া মার্কিন প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদ ছেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই প্রতিনিধি দলে অন্যান্যদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারও ছিলেন।
ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা তাসনিম লিখেছে, ইসলামাবাদে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা মার্কিন পক্ষের ‘অতিরিক্ত’ দাবির কারণে কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে।
আর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলেও কূটনীতি ‘কখনো শেষ হয় না’। এই আলোচনার মধ্য দিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ‘বেশ কয়েকটি বিষয়ে বোঝাপড়ায় পৌঁছেছে’, দুই পক্ষের মধ্যে ‘শুধু দুই থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছ’।
ইরানি আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ এক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা ফারস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী পর্বের আলোচনার জন্য ‘ইরানের কোনো তাড়া নেই’।
ফার্সের দেওয়া উদ্ধৃতিতে ওই সূত্র বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র একটি যুক্তিসম্মত চুক্তিতে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালির অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না।”
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানি বাহিনীগুলো বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।

