বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকার বাইরে শেষ নির্বাচনী জনসভা করলেন উত্তরের জেলা দিনাজপুরে, যেখানে রয়েছে তার নানা-নানির কবর।
জেলার বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে জনসভায় তিনি বলেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ আমি কিন্তু আজকে খুব ভালো আছি, বহু বছর পর নানিবাড়িতে আসছি। বহু বছর পরে আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে নানি বাড়িতে আসছি। আমি খুব ভালো আছি।
“এখন নাতি যে আসলো, কিছুই খাওয়াইলেন না আপনারা, এটা কেমন ভালো কথা হইলো? তাহলে একটা জিনিস দিতে হবে নাতিকে। নাতি যে আসছে নাতিকে কিছু দিতে হবে না? কী দিবেন নানিবাড়ির লোক?”
উপস্থিত সমর্থকরা ভোট দেওয়ার কথা বললে তারেক রহমান প্রশ্ন করেন, “কিসে ভোট দিবেন?”
সমস্বরে উত্তর আসে, “ধানের শীষে।”
বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে। ইস্কান্দার পরে জলপাইগুড়িতে বোনের বাসা থেকে পড়ালেখা করেন। সেখানে চা ব্যবসায় জড়ান ইস্কান্দার; বিয়েও করেন তিস্তা পাড়ের শহরটিতে।
অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। দেশভাগের পর পরিবারটি দিনাজপুর শহরে স্থানান্তর হয়।
তারেক রহমান বলেন, “এই দিনাজপুর অঞ্চলকে সমগ্র বাংলাদেশ জানে কৃষি প্রধান এলাকা হিসেবে। তাই তো নাকি? এখন এই কৃষি প্রধান যে অঞ্চল, কৃষি প্রধান যে এই এলাকা, এই এলাকায় আমরা চাই কৃষির সাথে সম্পর্কিত শিল্প গড়ে তুলতে ধীরে ধীরে।
“যাতে করে কৃষির সাথে যেমন এই এলাকার লিচু বিখ্যাত, বাংলাদেশ বিখ্যাত জগৎ বিখ্যাত এই এলাকার লিচু। কিন্তু এই লিচুকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে আমরা বিদেশে রপ্তানি করতে পারব; কিন্তু সেটা এখনো করা সম্ভব হয় নাই।”
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “১২ তারিখের নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ বিএনপি জয়যুক্ত হলে ধানের শীষ জয়যুক্ত হলে আমরা চাই এই দিনাজপুরের লিচুকে আমরা যাতে বিদেশে পাঠাতে পারি, হিমাগারে ঠিকভাবে রাখতে পারি, সেই পদক্ষেপ আমরা নিতে চাই।
“প্রিয় ভাই-বোনেরা, এই এলাকার কাটারিভোগ চাল জগৎ বিখ্যাত। এই চালকে আমরা পৃথিবীর আনাচে কানাচে রপ্তানির মাধ্যমে পৌঁছে দিতে চাই।”
তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তারেক রহমান বলেন, “এই এলাকায় শুধু রপ্তানিমুখী বা শিল্প স্থাপন করলেই হবে না; আমাদের এলাকায় এই এলাকায় বহু তরুণ যুবক আছে, তরুণ আছে, যুবক আছে, যুব সমাজের সদস্য আছে, তাদের শিক্ষার আলো আছে- কিন্তু তাদের কর্মসংস্থান নেই।
“আমরা চাই, এই এলাকায় বিভিন্ন রকম ভোকেশনাল এবং ট্রেনিং ইন্সটিটিউট তৈরি করতে যার মাধ্যমে এই এলাকার ছেলেমেয়েদেরকে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিং দিতে চাই।”
তিনি বলেন, “আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, যে সকল কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে- তাদেরকে সেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ আগামী বিএনপি সরকার মওকুফ করে দিতে চায়।
তারেক রহমান জনসভায় উপস্থিত দিনাজপুরের চারটি নির্বাচনী আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

