দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির হার আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়েই টানা তৃতীয় বছর ধরে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। শিক্ষার মান, পরিবেশ এবং আবাসনসহ নানা ব্যবস্থাপনার সংকটকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইউজিসির তথ্যমতে, ২০২৩ সালে দেশের ২১টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬৩৩ জন, যা ২০২২ সালে ছিল ৬৭০ এবং ২০২১ সালে ৬৭৭ জন। অন্যদিকে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই হ্রাসের চিত্র আরও স্পষ্ট। ২০২৩ সালে ৩২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ছিল মাত্র ৮২৬ জন, যা ২০২২ সালে ছিল ১,২৮৭ এবং ২০২১ সালে ছিল ১,৬০৪ জন। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ৪৬১ জন বিদেশি শিক্ষার্থী হারিয়েছে।

এই ধারাবাহিক পতনের কারণ হিসেবে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান একাধিক বিষয়কে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “ভাষাগত সমস্যা একটি বড় বিষয়। এর পাশাপাশি আবাসন ও ব্যবস্থাপনার সংকটও প্রকট। আমরা যখন দেশীয় শিক্ষার্থীদের জন্যই মানসম্মত আবাসন, সমৃদ্ধ লাইব্রেরিসহ একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারিনি, সেখানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করা কঠিন।” তিনি আরও যোগ করেন, উচ্চশিক্ষায় অপর্যাপ্ত বাজেট এই সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে।

তবে এর মধ্যেও কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। ২০২৩ সালের হিসাবে, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১২ জন বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯১ জন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৬ জন পড়াশোনা করছেন।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্বে) অধ্যাপক মো. আবু হাসান জানান, ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে সীমান্ত কাছে হওয়ায় যাতায়াতের সুবিধার কারণে এসব দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা আসেন। এ ছাড়া নাইজেরিয়া ও সোমালিয়ার মতো কয়েকটি দেশ থেকেও শিক্ষার্থী ভর্তির ধারা অব্যাহত আছে।

Share.
Exit mobile version