ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখে দীর্ঘদিনের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। বুধবার আঞ্চলিক রাজধানী লেহ-তে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
বিক্ষোভের আয়োজকরা জানিয়েছেন, ছয় বছর ধরে সাংবিধানিক সুরক্ষা ও রাজ্যের মর্যাদার দাবিতে চলা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনশন চলছিল। বুধবার অনশনের ১৫তম দিনে ৬২ ও ৭১ বছর বয়সী দুজন কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর তরুণ বিক্ষোভকারীদের একটি দল লেহ-এর মার্টার্স মেমোরিয়াল পার্ক থেকে সরে গিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আঞ্চলিক কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হয় এবং সেখানে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।
সহিংসতার পর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। বিক্ষোভের সমন্বয়ক জিগমত পালজর আল-জাজিরাকে বলেন, ‘তারা আমাদের তরুণ ও সাধারণ মানুষকে শহীদ করেছে।’ তিনি এই দিনটিকে ‘লাদাখের ইতিহাসে একটি ভয়ংকর রক্তক্ষয়ী দিন’ বলে অভিহিত করেন।
অন্যদিকে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বিশৃঙ্খল জনতার’ সঙ্গে সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর ৩০ জনের বেশি সদস্য আহত হয়েছেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পুলিশকে আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালাতে হয়েছে, যার ফলে কিছু ‘হতাহতের ঘটনা’ ঘটেছে।
এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ, সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুককে শুক্রবার ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারের আগে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই ঘটনাকে ‘জেন-জি বিপ্লব’ আখ্যা দিয়ে তরুণদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে উল্লেখ করেন। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওয়াংচুককে ‘বিশৃঙ্খল জনতাকে উসকানি’ দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে।
এই সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে, আয়োজক সংগঠন ‘লাদাখ অ্যাপেক্স বডি’ চলমান অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে শান্তির আহ্বান জানিয়েছে।

