অর্থ পাচারকারী কোম্পানিগুলোকে সরকারের চেয়ে বেশি ‘স্মার্ট’ হিসেবে অভিহিত করে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, তাদের এই দক্ষতার কারণেই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “অর্থ পাচার করার জন্য কোম্পানিতে যে কত ধরনের তেলেসমাতি হয়, তা এখন টের পাচ্ছি।”
সোমবার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘করপোরেট খাতে আর্থিক স্বচ্ছতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি ইআরএফ ইনস্টিটিউটের একাডেমিক কার্যক্রমের উদ্বোধনী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।
অর্থ পাচারের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পাচারকারীরা এ বিষয়ে অত্যন্ত পারদর্শী এবং তারা বিভিন্ন স্তরের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করে। তাঁর মতে, “অর্থ এমনি পাঠান না। প্রথমে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পাঠান। সেখান থেকে পরে পাঠান আরেক জায়গায়।”
এ প্রসঙ্গে তিনি নিরীক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অর্থ উপদেষ্টা বলেন, নিরীক্ষা কার্যক্রম শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। অর্থের উৎস এবং এটি কীভাবে তৈরি হলো, সেই বিষয়গুলোও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা অপরিহার্য।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া এবং ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) সভাপতি এন কে এ মবিন ও সাবেক বাণিজ্যসচিব শুভাশীষ বসু।

