ইরানে যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বসহকারে আলোচনা চালাচ্ছে। কিন্তু খুব শিগগিরই একটি চুক্তি না হলে ইরানের খার্ক দ্বীপ এবং তাদের তেলকূপ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া সর্বসাম্প্রতিক এক পোস্টে ট্রাম্প এই হুমকি দেন।
তিনি লেখেন,“(আলোচনায়) বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু যদি কোনও কারণে শিগগিরই চুক্তি না হয়; যা (চুক্তি) সম্ভবত হবে,
“এবং যদি হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে ‘ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া’ না হয়, তবে আমরা ইরানে আমাদের সুন্দরভাবে থাকা শেষ করব। তাদের সব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেল কূপ এবং খারক দ্বীপ সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেব।”
ইরানের প্রধান তেলভন্ডার খার্কে এর আগে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ওই দ্বীপের সামরিক ঘাঁটিগুলো নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে। তবে তেলে হাত দেওয়া হয়নি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহণে বাধা দেওয়া বন্ধ না-করলে তেলভান্ডারেও হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সেনা সংখ্যা বাড়াচ্ছে। প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫০০ সেনা ইতিমধ্যেই পৌঁছেছে। এই সেনা বাড়ানোর মধ্যেই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনাও চলছে।
গত সপ্তাহেই পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে ১৫ দফা প্রস্তাব পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রস্তাব পেয়েছে বলে নিশ্চিত করে জানায় ইরানও। দেশটি জানিয়েছিল, তারা ওই প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখছে।
তবে প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে ইরান তাদের অবস্থান প্রকাশ্যে ঘোষণা করেনি। এর মধ্যেই ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রস্তাবগুলোর বেশির ভাগই ইরান মেনে নিয়েছে।
ওদিকে, ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির আড়ালে গোপনে স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে।
এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে ট্রাম্প খার্ক দখল বা অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।

