আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় (আইএএসি) স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান লোপা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম ব্যাচের এই শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদকের পাশাপাশি ‘ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড’-ও লাভ করেন।

এবারের প্রতিযোগিতায় নুসরাতের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের আরও ৩১ জন শিক্ষার্থী পদক পেয়েছেন, যার মধ্যে ৭টি রৌপ্য ও ২৪টি ব্রোঞ্জ পদক রয়েছে। এছাড়া, সেরা ফাইনালিস্ট তত্ত্বাবধানের জন্য একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. রাসেল হোসেন ‘শিক্ষক অ্যাওয়ার্ড’ এবং এম এ সাইফ (৫০ ব্যাচ) ‘অ্যাম্বাসেডর অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। তাদের এই অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করবে। আমরা আগামীতেও এই সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।”

গত বছর এই প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছিলেন নুসরাত। নিজের ইচ্ছাশক্তি ও প্রস্তুতির ধারাবাহিকতায় এবার স্বর্ণপদক অর্জন করলেন তিনি। নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে নুসরাত বলেন, “২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো আমি আইএএসি’র সঙ্গে পরিচিত হই এবং গতবারই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি। সেটি ছিল আমার জন্য সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা। তবে আমাদের বড় ভাই-আপুরা যেভাবে সাপোর্ট ও গাইড করেছিলেন তাতে এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয়নি আমি এখানে নতুন। গতবার আমি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছিলাম। কিন্তু আমি থেমে যাইনি। নিজের ইচ্ছাশক্তিকে আরও দৃঢ় করেছি এবং আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি। যার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি এবং আমার বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য স্বর্ণপদক অর্জন করেছি।”

নুসরাত তার এই অর্জনকে বিভাগের সম্মিলিত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আমাদের সবার অর্জন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এক অসাধারণ সাফল্য। সবার অবদানে আমাদের এই অর্জন। বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ফান্ড প্রদান করা ও অনুপ্রাণিত করা। সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞ।”

উল্লেখ্য, নুসরাত জাবি অ্যাস্ট্রোনমি ক্লাবের গবেষণা ও প্রকল্প টিমের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে যুক্ত আছেন। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত আইএএসি একটি অনলাইনভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, যার মূল লক্ষ্য জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা।

Share.
Exit mobile version