সৌরজগতের অদৃশ্য সুরক্ষাবলয় ‘হেলিওস্ফিয়ার’-এর রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্যে একটি নতুন মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ‘ইন্টারস্টেলার ম্যাপিং অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন প্রোব’ বা আইম্যাপ নামের এই যানটি গত বুধবার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু করে। এই মিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো, মহাজাগতিক ক্ষতিকর বিকিরণ থেকে সূর্য আমাদের কীভাবে সুরক্ষা দেয় তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা।

বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্য থেকে অনবরত নির্গত চার্জযুক্ত কণার স্রোত (সৌরবায়ু) আমাদের সৌরজগৎকে ঘিরে একটি বুদবুদের মতো বলয় তৈরি করেছে, যা হেলিওস্ফিয়ার নামে পরিচিত। এই বলয়টি মহাজাগতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে মিল্কিওয়ে ছায়াপথ থেকে আসা ক্ষতিকর রশ্মিগুলোকে প্রতিহত করে। আইম্যাপ মূলত এই সুরক্ষাব্যবস্থা এবং সৌরজগতের বাইরের মহাকাশের সঙ্গে এর আন্তঃক্রিয়া নিয়ে গবেষণা চালাবে।

অভিযানের অংশ হিসেবে আইম্যাপ মহাকাশযানটিকে পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যবর্তী ল্যাগ্রেঞ্জ পয়েন্ট (এল১)-এ স্থাপন করা হবে, যা পৃথিবী থেকে প্রায় এক কোটি মাইল দূরে অবস্থিত। এই সুবিধাজনক অবস্থান থেকে যানটি সূর্যের কার্যকলাপের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখতে পারবে। এর ফলে পৃথিবীতে সৌরঝড় বা বিকিরণের বিস্ফোরণ আঘাত হানার প্রায় ৩০ মিনিট আগেই বিজ্ঞানীরা সতর্কবার্তা পাওয়ার আশা করছেন।

আইম্যাপ যানটিতে চৌম্বকক্ষেত্র পর্যবেক্ষণ এবং বিকিরণ শনাক্ত করার মতো বিভিন্ন অত্যাধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে। এর মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য একটি রিয়েল-টাইম সিস্টেমে পাঠানো হবে, যা মহাকাশের আবহাওয়ার পূর্বাভাস ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে সহায়তা করবে। এই মিশনের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা বোঝার চেষ্টা করবেন, কীভাবে সূর্যের কার্যকলাপ হেলিওস্ফিয়ারকে প্রভাবিত করে এবং আমাদের সৌরজগৎ ছায়াপথের বাকি অংশের সঙ্গে কীভাবে সংযুক্ত।

Share.
Exit mobile version