পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে ইরানে হামলা করা হবে- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন হুমকির মধ্যেই সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনায় বসেছেন মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা।
২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ইরাকে হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে সবচেয়ে বড় সেনা সমাবেশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানও আক্রান্ত হলে কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
এমন একটি পরিস্থিতিতে দুইপক্ষের মধ্যে এই পারমাণবিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই আলোচনাকে সংঘাত এড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগেরবারের মতো এবারের আলোচনাতেও মধ্যস্থতা করছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি। তিনি বলেন, আলোচকরা নতুন ও সৃজনশীল সব ধারণা এবং সমাধান নিয়ে নজিরবিহীন খোলামেলা আলোচনা করেছেন।
তবে চুক্তির সম্ভাবনা এখনও অস্পষ্ট। ট্রাম্প যদিও বলেছেন যে, তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধান করতে পছন্দ করেন। কিন্তু ইরানের নেতাদের চুক্তি মেনে নিতে চাপ দেওয়ার জন্য দেশটির উপর সীমিত পরিসরে হামলার কথাও বিবেচনা করছেন তিনি।
আলোচনায় তিনি কী দাবি করছেন এবং ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের সময় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোর আট মাস পর এখন কেন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে, সেটি ব্যাখ্যা করেননি ট্রাম্প।
ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে তারা যে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু ছাড় দিতে প্রস্তুত এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এই মাসের শুরুতে ওমানের মধ্যস্থতায় হওয়া আগের দুই দফা আলোচনার মত এবারের আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনার।
কয়েক দশক ধরে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করে আসছে।তবে ইরান জোর দিয়ে বলে আসছে যে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

