মনে করা হচ্ছে, এর পেছনে রয়েছে গভীর আইনি ও রাজনৈতিক সমীকরণ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ICT) চিফ প্রসিকিউটর পদে পরিবর্তনের গুঞ্জনের মধ্যেই অবশেষে চিফ প্রসিকিউটর পদে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হলেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম—এমন খবর চাউর হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নানা বিশ্লেষণ। এই পরিবর্তনকে নিছক প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে দেখার সুযোগ কম; বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর আইনি ও রাজনৈতিক সমীকরণ।
জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল সময়ে তাজুল ইসলাম যখন দায়িত্ব নেন, তখন ট্রাইব্যুনাল ছিল প্রায় অচল। তার প্রধান শক্তিমত্তা হলো ট্রাইব্যুনালের রীতিনীতি ও আইনি প্যাঁচগুলো নখদর্পণে রাখা।
- জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে তার একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়।
- হুট করে তাকে সরিয়ে দিলে মাঠপর্যায়ে একটি ‘পারসেপশন’ বা জনমত তৈরি হতে পারে যে, বিচারের গতি হয়তো শ্লথ হয়ে যাবে। কারণ, প্রসিকিউশনের যে বিশাল কর্মযজ্ঞ তিনি গুছিয়ে এনেছিলেন, নতুন কারোর জন্য তা বুঝে নেওয়া এবং একই গতিতে এগিয়ে নেওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং।
আমিনুল ইসলাম: সরকারের আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা
অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলামের নিয়োগের পেছনে কাজ করছে নিখুঁত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক লজিক।
- বিশ্বস্ততা: একটি সরকার যখন পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব নেয়, তখন তারা অত্যন্ত সংবেদনশীল জায়গাগুলোতে (যেমন ট্রাইব্যুনাল) এমন কাউকে চায় যার সাথে দীর্ঘদিনের বোঝাপড়া আছে। আমিনুল ইসলাম দীর্ঘ বছর ধরে বর্তমান শাসকদলের শীর্ষ নেতাদের আইনি সুরক্ষা দিয়েছেন; ফলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে তার কাজের সমন্বয় হওয়াটা অনেক সহজ।
- স্বাভাবিক পালাবদল: গণতান্ত্রিক বা সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকার পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদের পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সরকার সম্ভবত আমিনুল ইসলামের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালকে নিজস্ব ভিশনে আরও শক্তিশালী করতে চাইছে।
চ্যালেঞ্জ এখন নতুন নেতৃত্বের
তাজুল ইসলামের সাহসিকতা ও আইনি দক্ষতায় ইতিমধ্যে তিনটি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এখন যদি আমিনুল ইসলাম চূড়ান্তভাবে দায়িত্ব পান, তবে তার সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে জনমনে তৈরি হওয়া ‘আশঙ্কা’ দূর করা। তাকে প্রমাণ করতে হবে যে, এই পরিবর্তন কেবল ব্যক্তি পরিবর্তন নয়, বরং বিচারের মান ও গতিকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে যাওয়ারই একটি প্রয়াস।

